সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম ফের পেছাল

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখিয়ে খ্যাতনামা সাতটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র কিনলেও গতকাল সোমবার শেষ দিনে কেউই তা জমা দেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অনুসন্ধান কার্যক্রমে যে গতি এসেছিল, তা বাধাগ্রস্ত হলো। এখন নতুন করে দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাগরে অনুসন্ধান কার্যক্রমের জন্য যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, তাতে অংশ নিতে সাতটি আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা কোম্পানি দরপত্র কিনেছিল। এ ছাড়া আরও দুটি কোম্পানি সাগরে ‘মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভের’ ডেটা কিনেছিল। কিন্তু আজ (গতকাল) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউই দরপত্র জমা দেয়নি।

শেষ সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সাড়া না দেওয়ার কারণ কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা জানা যায়নি। তবে দরপত্র সংগ্রহের পরও জমা না দেওয়ার একটা কারণ হতে পারে গ্যাসের দর। দরপত্রে গ্যাসের দর ক্রুড অয়েলের দামের সঙ্গে ওঠানামা করার শর্ত রয়েছে। বর্তমানে ক্রুড অয়েলের দাম ৭২ ডলার বিবেচনায় নিলে গ্যাস দর হবে ৭.২ ডলার। এ কারণে হয়তো শেষ সময়ে আগ্রহ দেখায়নি প্রতিষ্ঠানগুলো। আবার অন্য কারণও থাকতে পারে।’

জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ‘কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। সরকারকে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনে কোনো সংশোধনের দরকার পড়লে তা করে শিগগির আবার দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা জয়ের পর ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি সমুদ্র অঞ্চলের ওপর মালিকানা পায় বাংলাদেশ। ওই রায়ের পর ভারত ও মিয়ানমার তাদের অংশে বিপুল পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন ও রপ্তানি করছে।

এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এরপর ২০১৯ সালে নতুন পিএসসি (উৎপাদন ও বণ্টন চুক্তি) হালনাগাদ করা হলেও দরপত্র ডাকা হয়নি।

বাংলাদেশের সাগরাঞ্চলে গ্যাসের মজুদের বিষয়ে আশাবাদী জ¦ালানি বিশেষজ্ঞরা।  এ বিষয়ে ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা না দেওয়ায় সাগরে অনুসন্ধান কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে গেল। তবে এর পেছনে লেগে থাকতে হবে। কারণ বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস পাওয়ার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের জ্বালানি সংকট মেটাতে এই গ্যাস খুবই দরকার।’