কুমিল্লায় প্রতিকৃতির কালি মুছতে গিয়ে হামলার শিকার

কুমিল্লার কৃতী সন্তান ও নারী জাগরণের পথিকৃৎ নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার রূপকার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের কালিমাখা বিকৃত প্রতিকৃতি পরিষ্কার করতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেতা আবদুর রাজ্জাক। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর সার্কিট হাউজ মোড় এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের পিস্তলের বাঁটের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাকে নগরীর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আবদুর রাজ্জাক বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং কুমিল্লা জেলা শাখার সমন্বয়ক। এ ছাড়া তিনি সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির পদে আছেন।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর উদ্যোগে সার্কিট হাউজ মোড়ে স্থাপিত দৃষ্টিনন্দন ম্যুরালে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ড. আখতার হামিদ খান, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার রফিকুল ইসলামের প্রতিকৃতি বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান ব্যক্তির প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কুমিল্লা নগরীর বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, ম্যুরাল ও প্রতিকৃতিতে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে রক্ষা পায়নি নগরীর সার্কিট হাউজ মোড়ে স্থাপিত ম্যুরালও। সেখানে থাকা প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতির মধ্যে নবাব ফয়জুন্নেছা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের ছবি কালো কালিতে বিকৃত করা হয়। গত চার মাসেও প্রতিকৃতি দুটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়নি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। তাই গতকাল সকালে প্রতিকৃতি দুটি পরিষ্কার করতে গেলে হামলার শিকার হন বাসদ নেতা আবদুর রাজ্জাক। 

আহত বাসদ নেতা বলেন, সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি একাই প্রতিকৃতি দুটি পরিষ্কার শুরু করেন। এ সময় সাত-আটজন ব্যক্তি এসে তাকে ঘিরে ফেলেন। ৪০-৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বেগম রোকেয়া ও ফয়জুন্নেছাকে আপত্তিকর ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বলেন, ওই দুই নারীই দেশের নারীদের শেষ করেছে। রফিকুল ইসলামের নাম নিয়ে বলেন, সে কীসের মুক্তিযোদ্ধা! আসল মুক্তিযুদ্ধ তো হয়েছে গত ৫ আগস্ট। এ সময় রাজ্জাক ওই ব্যক্তির আপত্তিকর এসব কথার প্রতিবাদ জানালে তাকে মারধর শুরু করা হয়। একপর্যায়ে পিস্তল বের করে তার বাঁট দিয়ে চোখের বাম পাশে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাকে কিল, ঘুসি ও লাথিও মেরে আহত করা হয়।

আবদুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘ওই ব্যক্তি পিস্তল তাক করে বলেন, একবারে গুলি করে মেরে ফেলব। তবে গুলি করার সময় হামলাকারীর সঙ্গে থাকা অন্য লোকজন আমাকে রক্ষায় সামনে দাঁড়িয়ে গেলে আমি রক্ষা পাই। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। কারা ওই হামলায় জড়িত তা শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’