বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে ঢাকায় আটকে পড়েছিল ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনটি। অবশেষে প্রায় পাঁচ মাস পর যাত্রীবিহিন ট্রেনটি কঠোর নিরাপক্তায় ঢাকা থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুঁড়িতে ফিরেছে। এটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন, যা পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের নিয়ে ভারতের নিউ জলপাইগুঁড়ি থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত চলাচল করতো। তবে দুই দেশের মধ্যে এই ট্রেনের পরিষেবা আবার কবে চালু হবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পশ্চিম অঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে ট্রেনটির খালি রেক ঢাকা থেকে ছেড়ে পদ্মা ও পাকশী সেতু হয়ে বিভিন্নরুট দিয়ে এনে রাতে নীলফামারীর চিলাহাটি দিয়ে ভারতের হলদিবাড়ী প্রবেশ করে। ১৩১৩২/৩১ নম্বর মিতালি ট্রেনটি সর্বশেষ যাত্রী নিয়ে গত ১৭ জুলাই ভারতের নিউ জলপাইগুঁড়ি থেকে ঢাকায় রওনা দিয়েছিল। বরাবরের মতো ট্রেনটি ভারতের হলদিবাড়ী বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশের চিলাহাটি হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের কারণে ঢাকায় আটকে যায় ট্রেনটি।
সূত্র আরও জানায়, ২০২২ সালের ১ জুন উদ্বোধনের পর নিউ জলপাইগুঁড়ি থেকে সপ্তাহে রবি ও বুধবার ভারতীয় সময় বেলা পৌঁনে ১২টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে রাত ১০টায় পৌঁছে ট্রেনটি। অপর দিকে ঢাকা থেকে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে নিউ জলপাইগুঁড়ি স্টেশনে পৌঁছায় সকাল ৭টায়। ট্রেনটির চলাচল রুট ছিল যমুনা সেতু দিয়ে।
শীতের ঘন কুয়াশায় বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে মিতালি এক্সপ্রেস ভারতে প্রবেশ করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ইঞ্জিনে। আবার ভারতে মিতালির বগিগুলো হলদিবাড়ী স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে ইঞ্জিনটি বুধবার বিকাল ৩টার দিকে চিলাহাটিতে ফিরে আসে। তবে ট্রেনে কোনো যাত্রী ছিল না। ট্রেন রেকটি ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করার পর সীমান্ত রক্ষীরা প্রতিটি বগি তল্লাশি করার পর হলদিবাড়ি ষ্টেশনে নেয়। এরপর সেখান থেকে নিউ জলপাইগুলি নেওয়া হয় মিতালির রেকটি।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, ট্রেন পরিচালনা করতে কঠোর নিরাপক্তা দেওয়া হয়। যাতে কোনো দুস্কৃতিকারী ভারতীয় রেকের মিতালির কোনো ক্ষতি করতে না পারে। যার কারণে বিষয়টি যেমন গোপন রাখা হয় তেমনি নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় মিতালি এক্সপ্রেসের রেক ফিরে পাওয়ায় ভারতীয় পূর্ব রেল বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
চিলাহাটি স্টেশনের স্টেশনমাস্টার হায়দার আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে মিতালি এক্সপ্রেস ঢাকায় আটকে ছিল। মঙ্গলবার রাতে খালি বগিগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ে হলদিবাড়ী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। এ সময় ৪টি এসি বার্থ, ৪টি এসি চেয়ারকার ও ব্রেক ভ্যানসহ দুটি পাওয়ার কার ভারতকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কারণ রেকটি ছিল ভারতীয় পূর্বরেলের।
উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালের পর ২০২২ সালের ১জুন হলদিবাড়ী-চিলাহাটি রুটে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে মিতালি এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ৫৭ বছর পর ফের চালু হওয়া মিতালি এক্সপ্রেসটি সাময়িকভাবে বন্ধ হলো। ১৯৬৫ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একটি বিলুপ্ত রেলওয়ের ট্রানজিট পয়েন্ট ছিল।