কাঠগড়া থেকে লাফিয়ে নারী বিচারকের ঘাড়ে আসামি, অতঃপর...

এজলাসে বসে মামলা শুনছিলেন বিচারক। সামনে বসেছিলেন বাদী এবং বিবাদীপক্ষ। বসেছিলেন অভিযুক্তও। হঠাৎই চিৎকার করে উঠলেন তিনি। এক লাফে কাঠের দেয়াল টপকে গিয়ে বিচারকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষিও চালালেন। খবর ফক্স নিউজের।

চাঞ্চল্যকর এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসের এক আদালতে। এই হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিচারকের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবককে কয়েক দশকের সাজা শোনানো হয়েছে। 

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাস ভেগাসের ক্লার্ক কাউন্টি জেলা আদালতের বিচারক মেরি কে হোলথাসের ওপর মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয়। তাকে মারধর করেন ডেবরা রেডডেন নামে অভিযুক্ত যুবক। হত্যার চেষ্টা ও অন্যান্য অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলায় সেপ্টেম্বর মাসেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। এখন বিচারককে মারধর করার অভিযোগে ২৬ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে তাকে কারাবাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ৪ ফুট উঁচু বেঞ্চের উপর দিয়ে লাফিয়ে এজলাসে পৌঁছে যান রেডডেন। এর পরেই বিচারক হোলথাসের চুল ধরে তাকে মাটিতে ফেলে দেন। কিল-চড়-ঘুষিও মারতে থাকেন। পুলিশ এবং আদালতের কর্মকর্তারা অনেক কষ্টে তাকে নিরস্ত করেন। ‘বিএনও নিউজ’-এর এক্স হ্যান্ডল থেকে সেই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। 

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মারধরে আহত হয়েছেন বিচারক হোলথাস। যদিও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়নি। রেডডেনকে যারা আটকাতে গিয়েছিলেন তাদেরও কেউ কেউ আহত হন। 

বিচারক হোলথাস জানিয়েছেন, রেডডেন তাকে আক্রমণ করার সময় তিনি মৃত্যুভয় পেয়েছিলেন। অন্য দিকে, রেডডেনের আইনজীবী কার্ল আর্নল্ডের দাবি, রেডডেনের ‘স্কিৎজোফ্রেনিয়া’ রয়েছে, এবং তিনি কয়েক দিন ধরে ওষুধ খাচ্ছিলেন না। ওই কারণেই তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী।