চবির চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবিতে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

মূল ক্যাম্পাসে ফেরা ও বৈষম্য দূর করার দাবিতে আবার আন্দোলনে নেমেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এসব দাবিতে গত দুই বছরে এই নিয়ে তৃতীয় দফায় আন্দোলন করছেন এই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) তিনটার সময় ইনস্টিটিউটের মূল সড়ক বন্ধ রেখে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। সড়কে আগুন জ্বালানো ও অবরোধের পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা আন্দোলনরতরা। তবে সেশনজট কমাতে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

এ বিষয়ে ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী খন্দকার মাসরুল আল ফাহিম দেশ রূপান্তর কে আমাদের মূল ক্যাম্পাস শহর থেকে দূরে এবং  শুধুমাত্র আমাদের বিভাগ কে চট্টগ্রামের একটি কর্নারে ফেলে রাখা হয়েছে। এটিই আমাদের সাথে বৈষম্য। আমরা একাধিকবার আন্দোলন করে আবার সরাসরি দাবি দিয়েও তাদের কাছে আশানুরূপ কিছু পাইনি। তাই আমরা এখন এক দফা দাবি জানাচ্ছি আমাদের মূল ক্যাম্পাসে ফেরাতে হবে।অন্যথায় আমরা কঠিন আন্দোলনের ডাক দিবো।

তিনি আরও বলেন, এর আগেরবার আন্দোলন করায় আমাদের শিক্ষার্থীদের সাথে চারুকলার শিক্ষকরা নানা ভাবে হেনস্থা করেছে, পরিক্ষায় মার্কস কমিয়ে দেয়া, পরিক্ষায় বসতে না দেয়া সহ নানা ভাবে আমাদের ভয় দেখিয়েছে। আমাদের আটকাতে পরিক্ষার পরে তের মাস পর রেজাল্ট দেয়া হয়েছে।  আমরা এসব অনিয়মের বিরদ্ধেও আমাদের আন্দোলন চালাচ্ছি।

ইনস্টিটিউটের অপর এক শিক্ষার্থী তওহিদুল ইসলাম মাহি  দেশ রূপান্তর কে বলেন, এর আগে স্বৈরচারের দোসররা এই ইনস্টিটিউটে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছে।তারাই আবার ও মাথাচাড়া দিয়ে ঊঠেছে।নানা ভাবে আমাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমাদের ক্ষতির চেষ্টা করছে। আমরা চাই আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া বৈষম্য এই সংস্কারের সরকার সমাধান করবে। এবং  মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত এই বৈষম্য দূর হবে না।তাই আমাদের আন্দোলন অব্যহত থাকবে।

চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, যাঁরা ফেল করেছেন এবং ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাঁরা তালা দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি প্রক্টরকে জানিয়েছেন। প্রক্টর ব্যবস্থা নেবেন।

শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ দাবিতে ২০২২ সালের নভেম্বরে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকে তাঁদের ক্লাস বর্জন অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে ইনস্টিটিউট নগর থেকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে তাঁরা এক দফা দাবি দেন। প্রশাসন দাবি না মানায় ১৬ নভেম্বর ইনস্টিটিউটের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

পরে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে শর্ত সাপেক্ষে ২৩ জানুয়ারি ক্লাসে ফিরেছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়ায় ৩১ জানুয়ারি থেকে তাঁরা আবারও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। একই দিন শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ ক্লাসে ফেরার দাবি জানায়। এ অবস্থায় চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে চারুকলায় ইনস্টিটিউটের হোস্টেলে তল্লাশি চালায় পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত বছর ২ ফেব্রুয়ারি চারুকলায় সশরীর শ্রেণি কার্যক্রম এক মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারুকলা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ভবন সংস্কারের কথা বলে কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নেয়। পরে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাসেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকে। তবে ৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

এরপরও শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাসে ফেরার দাবিতে আন্দোলন করতে থাকেন৷ তবে একপর্যায়ে সেশনজট কমাতে গত বছর ৩ মে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। আজ থেকে তাঁরা আবার আন্দোলন শুরু করেছেন।