নিখোঁজের একদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে মায়ের কোলে ফিরেছে এক শিশু। মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী থেকে নিখোঁজ হয় ২০ মাসের শিশু আরাফাত ওমর। সেদিন রাতেই কেরানীগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন আরাফাত ওমরের মা শাহানা।
এদিকে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের নিমতলা বাজারের মিষ্টির দোকানে অজ্ঞাত নারী মায়ের পরিচয়ে একটি শিশুকে রেখে পালিয়ে যায়।
এরপর স্থানীয়রা ফেসবুকে একটি লাইভ প্রচার করেন শিশুটির প্রকৃত পরিচয় খুঁজে পেতে। মুহূর্তেই ভিডিটি ভাইরাল হয়ে যায়।
বুধবার রাতে সিরাজদীখান থানা পুলিশ জানতে পারেন কেরানীগঞ্জ থানায় শিশু হারানোর একটি জিডি হয়েছে। জিডির সূত্র ধরে সিরাজদীখান থানা পুলিশ নিমতলা বাজারের মিষ্টির দোকানে শিশুটিকে রেখে যাওয়া নারীর সন্ধানে নামে।
শেখরনগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ আজ বুধবার ভোরে রত্না নামে নারীকে খুঁজে পায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন। রত্না সিরাজদীখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের ফইনপুর গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী।
রত্না জানায়, তিনি শিশুটিকে বিক্রির উদ্দেশ্যে কদমতলী থেকে চুরি করেছে। যার কাছে বিক্রি করবে তিনি এই শিশুকে গ্রহণ করেনি বা নিতে আসেনি। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি শিশুকে নিমতলার মিষ্টির দোকানে রেখে পালিয়ে যান।
নিমতলা হাট ও বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাগর শেখ পুলিশকে অবগত করে শিশুটিকে পরম মমতায় নিজের বাসায় রাতে রাখেন। আজ সকালে থানায় নিয়ে আসেন তারা। খবর পেয়ে সিরাজদীখান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুমন মধুসহ কর্মকর্তারা ছুটে আসেন থানায়।
অন্যদিকে ফেসবুকের বদৌলতে শিশুটির প্রকৃতি মা ভিডিও দেখে জানতে পারেন তার সন্তান সিরাজদীখানে পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে আমার ছুটে আসেন শিশুর মা শাহানা। শিশুটির মা শাহানা কাজ করেন গৃহ পরিচারিকার। থাকেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার আম বাগিচা এলাকার রনিদের বাড়িতে।
এ বিষয়ে সিরাজদীখান থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর জানান,শিশুটির মা থানায় এসেছে। আমরা শিশুটিকে চুরি করে আনা ওই নারীকে আটক করেছি। শিশু আরাফাতকে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।