প্রেসিডেন্ট দপ্তরে বাধার মুখে পুলিশ

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সামরিক আইন ঘোষণার তদন্তের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট ইউনের দপ্তরে তল্লাশির চেষ্টা চালায় পুলিশ। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বাধার মুখে মূল ভবনে ঢুকতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক আইনের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরিকল্পিতভাবে কারাবন্দি করা এবং ভিন্নমতকে দমন করার উদ্দেশ্য ছিল তাদের কাছে এমন আলামত আছে। ইউন এবং তার সামরিক আইনের আদেশ জারির সঙ্গে জড়িতদের বিদ্রোহ করার অভিপ্রায় ছিল কি না সে দিকটি তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ প্রধান এবং সামরিক গোয়েন্দা প্রধান-সহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে। গত ৩ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে এক টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইউন কোরিয়ার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সামরিক আইন ঘোষণা করেন। চাপের মুখে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর তিনি এ ঘোষণা থেকে সরে এলেও দক্ষিণ কোরিয়া কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে পড়ে। এদিকে, কারাগারে বন্দি দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং হিউন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ইউনের স্বল্পস্থায়ী সামরিক আইন ঘোষণায় তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। কোরিয়া কারাগার পরিষেবার কমিশনার জেনারেল শিন ইয়ং-হায় সংসদে জানান, কিম আত্মহত্যার চেষ্টা করলে কারা কর্মকর্তারা তা প্রতিহত করেন এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। বিচারমন্ত্রী পার্ক সুং জায়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট কিমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালত জানায়, অভিযোগের ভিত্তি, অপরাধের গুরুতর এবং প্রমাণ নষ্টের শঙ্কা বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল পুলিশ সংস্থা ও সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ সংস্থার প্রধানরাও আটক হয়েছেন। কোরিয়ান ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির কমিশনার জেনারেল চো জি-হো এবং সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সির প্রধান কিম বং-সিককেও বিদ্রোহের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তবে, পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার হওয়ায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার না করা হলে মুক্তি দেওয়া হবে।