সময়ের সমষ্টিই জীবন

আমাদের জীবন সামান্য কিছু সময়ের সমষ্টি মাত্র। আমাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট একটি সময় রয়েছে। সময়ের মুহূর্তগুলোকে যদি কাজে লাগাতে না পারি তাহলে আমাদের চেয়ে হতভাগা আর কেউ নেই। সময়ের সঠিক ব্যবহারই আখেরাতের সাফল্য বয়ে আনে। সময়ের অপচয় করা মানে নিজের জীবনে ধ্বংস ও বিপদ ডেকে আনা এবং জীবনকে বরবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া। তাই অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করা কাম্য নয়।

মুমিন বান্দারা মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করার মাধ্যমে সময়ের সদ্ব্যবহার করে। তারা ইসলামের বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করে। তাদের অবসর সময় কাটে কোরআন তেলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও তসবিহ পাঠের মাধ্যমে। এভাবে তারা নেক আমলের পাল্লাকে ভারী করে তোলে। আরেক শ্রেণির মানুষ সময়ের ব্যাপারে নিজের প্রতি জুলুম করে। তারা নিজেদের সময় অপচয়ের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। আল্লাহতায়ালা তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব নেবেন। এই চিন্তাটুকুও তাদের নেই। যারা মন্দ কাজে সময় নষ্ট করে তারা কেয়ামতের দিন বুঝতে পারবে, কীভাবে তারা নিজেদের সময়কে নষ্ট করেছে।

আজকাল অনেক মুসলমান ইসলাম পালনের ব্যাপারে কোনোরূপ গুরুত্ব দেয় না। ইবাদতের মাধ্যমে জীবনকে কাজে লাগানোর বিষয়টি অধিকাংশ লোকই বুঝে না। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আমি কি তোমাদের সেসব লোকের সংবাদ দেব যারা কর্মের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত? তারাই সেসব লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে পণ্ড হয়। অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকর্ম করছে।’ (সুরা কাহাফ ১০৩-১০৪) মানুষ যখন সবকিছু আল্লাহর জন্য করে তখন তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। এভাবে মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত হিসেবে গণ্য হতে পারে। এভাবে জীবন অতিবাহিত করাই প্রকৃত মুসলমানের কাজ। অন্যথায় মৃত্যুর পর মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য আফসোস করে বলবে, আমাকে পুনরায় দুনিয়ায় আসার সুযোগ দেওয়া হোক, যাতে আমি সৎকাজগুলো করতে পারি। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অবশেষে যখন তাদের কারও মৃত্যু আসে, সে বলে, হে আমার রব, আমাকে ফেরত পাঠান, যেন আমি সৎকাজ করতে পারি, যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ (সুরা মুমিনুন ৯৯-১০০) মহান আল্লাহ আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করার তওফিক দান করুন। যেন আমরা পরকালের আজাব থেকে মুক্তিলাভ করতে পারি।