আন্দোলনে আহতদের ৭৫ শতাংশ বিষন্নতায়

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের ৭৫ শতাংশই মৃদু থেকে চরম মাত্রার বিষণœতায় ভুগছেন। আহতদের ২২ শতাংশ চরম উদ্বেগ ও ৯ শতাংশ চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুরুষ আহতদের ওপর করা এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা এই জরিপ করেন।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন ৫৫ জন আহতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বা ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ মৃদু থেকে চরম বিষন্নতায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ বা ২৭ শতাংশ রোগীর বিষন্নতা চরম মাত্রায় রয়েছে ও তীব্র বিষন্নতা রয়েছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ রোগীর।

প্রায় অর্ধেকের বেশি রোগীর মৃদু থেকে খুবই তীব্র মাত্রার উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মধ্যে মৃদু উদ্বেগে রয়েছেন ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, তীব্র উদ্বেগে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ও চরম উদ্বেগে রয়েছেন ২২ শতাংশ রোগী।

চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে মৃদু থেকে চরম স্ট্রেস বা মানসিক চাপে রয়েছেন ৫৮ শতাংশ রোগী। তাদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপে ১৬ শতাংশ ও চরম মানসিক চাপে ৯ শতাংশ রোগী।

গতকাল জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘দৃষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক কর্মশালায় জরিপের এই তথ্য তুলে ধরেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুনতাসীর মারুফ।

এই চিকিৎসক জানান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আন্দোলনে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে পুরুষ রোগীদের জন্য ১০ শয্যার আলাদা ওয়ার্ড এবং নারী রোগীদের ১০ শয্যার আলাদা ওয়ার্ড রয়েছে। এছাড়া সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন অফিস সময়ে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে বিশেষ কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি সেবার ব্যবস্থা রয়েছে।

এসব আহতের বিশেষ যত্ন ও চিকিৎসার পরামর্শ দেন ডা. মুনতাসীর মারুফ। তিনি বলেন, সহিংসতার শিকার বা প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিকে তার চিন্তাভাবনা ও যথাযথ আবেগ প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সামাজিক ও আইনি সহায়তার মাধ্যমে তার নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনার কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ মোকাবিলা ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিষণœতা উদ্বেগ পিটিএসসিসহ যে কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হলে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাছের লোকদের বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে।