সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ ছাড়া একই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের একসঙ্গে ভ্রমণে ‘না’ করা হয়েছে ১৩ দফার ওই নির্দেশনায়। এর আগেও একাধিকবার সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।
নতুন করে আগের আদেশ ও নির্দেশনার আলোকে গত সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়। সর্বশেষ গত বছরেও ডলার-সংকটের কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে এমন কড়াকড়ি আরোপ করলেও এসব তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির কর্মকর্তারা প্রভাব খাটিয়ে নানা অজুহাতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ করছেন।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার সইয়ে জারি করা অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা বিদেশে বিনোদন ভ্রমণ পরিহার করবেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষণ ছুটিতে যাওয়া পরিহার করবেন। বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কর্মকর্তার পূর্ববর্তী এক বছরের বিদেশ ভ্রমণের বিস্তারিত সংযুক্ত করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়, সাধারণভাবে বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হবে। বছরের সম্ভাব্য বিদেশ ভ্রমণের একটা তালিকা জানিয়ে রাখতে হবে। বিদেশ ভ্রমণের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের কাঠামো তৈরি করে দেবে এবং এর তথ্য সংরক্ষণ করবে।
এতে আরও বলা হয়, সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তারা একাধারে বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করবেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ সাধারণভাবে পরিহার করবেন। তবে জাতীয় স্বার্থে অনুরূপ ভ্রমণ একান্ত অপরিহার্য হলে অপরিহার্যতার বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধীন অধিদপ্তর বা সংস্থা প্রধানরা একান্ত অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ ছাড়া একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে যাবেন না। বিদেশে সেমিনার-ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের জন্য উপদেষ্টা ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং অপরাপর অংশগ্রহণকারী দেশ থেকে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাতে অংশ নিচ্ছেন সে তথ্য সন্নিবেশ করবেন।
বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পেশের সময় ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রস্তাবিত কর্মকর্তার ওই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতা ও উপযোগিতার বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কেনাকাটা, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন বা এমন ক্ষেত্রে কেবল সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করতে হবে। সরকারি অর্থে কম প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে।