খুলনায় আধুনিক কসাইখানা নির্মাণে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে দুই বছর আগে ১০০ শতক জমি বুঝিয়ে দেয় সিটি করপোরেশন। ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ কাজ বাস্তবায়নে চলতি বছর জুনে টেন্ডার আহ্বানও করা হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও মূল প্রকল্প থেকে ছিটকে পড়ল সেই কসাইখানা নির্মাণকাজ। সুশীল সমাজ ও নগরবাসীর ভাষ্য, স্বাস্থ্যসম্মত মাংস ও পরিবেশ দূষণের কথা বিবেচনায় রেখে প্রকল্প রিভিউ করে কসাইখানা বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। অবশ্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুলনার পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কসাইখানা নির্মাণ কাজও।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় ২০১৮ সালের শেষ দিকে ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প একনেকে পাস হয়। যার মেয়াদ ছিল ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল। ৫ হাজার ৩৮৯ কোটি ৯২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটির কাজ দেশের ৬১টি জেলায় চলমান রয়েছে। যার আওতায় জেলা পর্যায়ে ১৮টি কসাইখানা, উপজেলা পর্যায়ে ১৪০টি ওয়েট মার্কেট ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে ৩টি কসাইখানা নির্মাণের কথা ছিল। তবে প্রথম মেয়াদে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়নি। তাই দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় খুলনার রাজবাঁধ এলাকায় ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণকাজ ধরা ছিল। সেখানে পশু জবাইয়ের পর হাতের স্পর্শ ছাড়াই পশুর মাংস প্রক্রিয়াজাত, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, বর্জ্য পরিশোধনব্যবস্থা, পশুর বিশ্রামাগার ও জবাইয়ের আগে-পরে পরীক্ষণ কক্ষ নির্মাণের কাজ করার কথা ছিল।
তবে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কর তাজুল ইসলাম ও ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে জানান, কসাইখানা নির্মাণে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে রাজধানীর খামারবাড়ি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে সিটি করপোরেশন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে খুলনা সিটির সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক ও প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুর রহিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। তাদের কাছে ১০০ শতক জমিও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ চলতি বছর ৬ জানুয়ারি খুলনায় কসাইখানা নির্মাণে টেন্ডার আহ্বান করে
কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রকল্প প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে মূল প্রকল্প থেকে খুলনায় কসাইখানা নির্মাণকাজ বাদ দেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ বাতিল প্রসঙ্গে প্রকল্পের উপপরিচালক ড. মো. শফিক-উল আযম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় কসাইখনা নির্মাণ বাতিল করা হয়েছে। শুধু খুলনা সিটি করপোরেশন না, একই সঙ্গে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্মাণকাজও বাতিল করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, চলতি বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায় মেট্রোপলিটন এলাকাতে লোনের টাকায় ৩টি কসাইখানা নির্মাণ অপরিহার্য নয় বলে বিবেচিত হয়। এছাড়া বর্তমানে এলসি খোলাও সময়সাপেক্ষ ও জটিল ব্যাপার। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ে যন্ত্রপাতি আমদানি অসম্ভব। মূলত এসব কারণে খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কসাইখানা নির্মাণ বাতিল করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, যত্রতত্র পশু জবাইয়ের কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। গল্লামারীর কসাইখানা থেকে প্রতিনিয়ত ময়ূর নদ দূষিত হচ্ছে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গ্রাহকের কাছে মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।