যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউজের মসনদে বসবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। নির্বাচনে জয়ের পর চীনের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে বৃহত্তম অর্থনীতির দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর আশঙ্কা বাড়ছে। এর মধ্যেই চমকপ্রদ এক পদক্ষেপ নিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানুয়ারিতে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। একাধিক সূত্রের বরাতে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সিবিএস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কিছুদিন পরই শি জিনপিংকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে তিনি তা গ্রহণ করেছেন কি না সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে, এনবিসি নিউজকে শুক্রবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন এবং চলতি সপ্তাহেই তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত চীনের প্রেসিডেন্টের যোগদান করলে, সেটি হবে নজিরবিহীন একটি ঘটনা। নিজের হবু প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চীনবিরোধী ব্যক্তিদের মনোনীত করে রেখেছেন ট্রাম্প। তাদের একজন হলেন পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত সিনেটর মার্কো রুবিও। এ ছাড়া ট্রাম্প তার নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় চীনের ওপর শুল্ক আরোপের বিভিন্ন হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত করে রেখেছেন। যেমন ফেন্টানিল নামক মাদকের চোরাচালান বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ না নিলে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ এমনকি ৬০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় মারাত্মক বাণিজ্য যুদ্ধের সতর্কতা জানিয়েছিল বেইজিং। বুধবার ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শি জিনপিংয়ের একটি চিঠি পড়ে শোনান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জিয়ে ফেং। চিঠিতে শি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রস্তুত বেইজিং। চিঠিতে দুই দেশের মধ্যকার সংকট সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। আর দুই দেশের মৌলিক আদর্শগত পার্থক্য আড়াল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন বেইজিংয়ে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস বার্নস। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানের তহবিলে ১০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১২ কোটি টাকার সমান। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ অনুদানের তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্ক জাকারবার্গের মালিকানাধীন বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারবার্গ। ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু নিজের পরাজয় মানতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। পরে তার উসকানিতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে সহিংস হামলা চালায় ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা। সকে ঘটনার পর ফেসবুকসহ মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে অতীতে ট্রাম্পের ব্যাপারে জাকারবার্গের যে অবস্থান ছিল, তাতে এখন একটা বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, নিজের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান রিচার্ড গ্রেনেলকে ইরানের বিশেষ দূত করার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও, এ বিষয়ে জানেন এমন দুজনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। তবে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে।