অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে হাসিনার সমালোচনায় সমর্থন নেই ভারতের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা ভারত সমর্থন করে না এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি অস্বস্তি রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। ভারতীয় সংবাদমধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, গত বুধবার ঢাকা সফর নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে ব্রিফ করার সময় বিক্রম মিশ্রি এ কথা বলেন।

এই কমিটির সভাপতি লোকসভার বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা শশী থারুর। সেদিন বিক্রম মিশ্রি তাদের কী কী বিষয়ে অবহিত করেছেন, তা বিস্তারিত জানাননি কংগ্রেসের এ নেতা। বুধবার বৈঠক শেষে শশী থারুর বলেন, পররাষ্ট্র সচিব মাত্রই সফর থেকে এলেন। তিনি সফর সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্রিফিং করেছেন। তিনি বলেন, ‘সফর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ যত প্রশ্ন কল্পনা করা সম্ভব এমপিরা জিজ্ঞাসা করেছেন। তাকে অনেক প্রশ্ন করা হয়েছে।’

প্রায় ২১-২২ জন এমপি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান শশী থারুর। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র সচিব অকপটে বিস্তারিতভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদীয় কমিটি আজকের বৈঠকের বিষয়ে সংসদে প্রতিবেদন দেবে। এটি অফিশিয়াল বিষয়।’

তবে গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, বিক্রম মিশ্রি তার ঢাকা সফর নিয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। সে সময়ই তিনি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য বা বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনাকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ‘কোনো একক রাজনৈতিক দল’ বা একটি সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় ভারত।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা তার মন্তব্যের জন্য ‘ব্যক্তিগত যোগাযোগ ডিভাইস’ ব্যবহার করছেন। ভারত সরকার তাকে (শেখ হাসিনা) এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ-সুবিধা দেয়নি, যা দিয়ে তিনি ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারেন। এটি তৃতীয় কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ না করার ঐতিহ্যগত রীতির অংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের এ বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে ভিডিও বার্তা দিয়ে আসছেন।