শীতেও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী। তাদের মধ্যে ৬-১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ও ১১-১৫ বছর বয়সী এক ছেলে শিশু রয়েছে। মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুজন ভর্তি ছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকার হাসপাতালে। বাকিদের মধ্যে একজন করে মারা গেছে চট্টগ্রাম বিভাগে, ঢাকা উত্তর সিটিতে ও রংপুর বিভাগে। এ নিয়ে এ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৫০ ছাড়াল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসের গত ১২ দিনে ডেঙ্গুতে ৫৩ জন মারা গেছে। এটি বছরের চতুর্থ সর্বোচ্চ মৃত্যু। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মারা গেছে গত মাসে ১৭৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৩৪৪ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৪১, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৪, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৬৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৭০, খুলনা বিভাগে ৪১, রাজশাহী বিভাগে ১৯, ময়মনসিংহে ৭ ও রংপুরে দুজন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল (১২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৭ হাজার ৯৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩ দশমিক ১০ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৯০ শতাংশ নারী।
এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৫৪১ জন। তাদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৬০ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ৪০ শতাংশ পুরুষ।
গত ২০০০ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০১৯ সাল থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে থাকে। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত বছর দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮ এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। গত বছর ১ হাজার ৭০৫ জন মশাবাহিত এ রোগে মারা গেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু।