হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে কফি খান, সাথে বাড়বে আয়ুও 

অনেকেই নিয়মিত কফি খান। কাজের ফাঁকে নিজেকে তরতাজা রাখার জন্য অনেকেই বারবার কফির কাপে চুমুক দেন।আবার কারও দিন শুরুই হয় কফি খেয়ে।কফি খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ঠিকই, কিন্তু আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ একই জায়গায় বসে কাজ করে যান, তাহলে কফি পান করার উপকার থেকে বঞ্চিত থেকে যেতে পারেন।

সম্প্রতি এই প্রসঙ্গে ১০ হাজার প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়, যা প্রকাশিত হয় বায়োমেড সেন্ট্রাল পাবলিক হেলথ জার্নালে। যে সমস্ত মানুষ কফি পান করার পাশাপাশি শারীরিক ক্রিয়াকলাপ করেন, তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার কিন্তু অনেকটা কম থাকে। কিন্তু আপনি যদি কফি পান করেন এবং সারাদিন একই জায়গায় ৮ ঘন্টার বেশি বসে থাকেন, তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনার মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাবে প্রায় ৬০ শতাংশ। কফি খেলে মেটাবলিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। এর মধ্যে ডায়াবিটিস রয়েছে এবং হার্ট সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকিও ৪০-৫০ শতাংশ কমে যায়। 

পর্তুগালের কোয়েমব্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের করা একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং আয়ু বাড়াতে কফি ভীষণ উপযোগী। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্টেলিয়া ও এশিয়া জুড়ে করা প্রায় ৮৫টি গবেষণাকে বিবেচনা করেন গবেষকেরা। কোয়েমব্রার করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে,নিয়মিত কফি খেলে জীবনের আয়ু ১.৮৪ বছর বেড়ে যেতে পারে। এর আগেও একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দিনে ৩ কাপ কফি স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী।

নিয়মিত কফি খাওয়ার উপকারিতা:

১) নিয়মিত কফি খেলে কার্ডিয়োভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এমনকী মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কফি খাওয়ার ফলে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের হার্ট অ্যাটাক,ক্যান্সার, ডায়াবিটিস, ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যা, স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া, ডিপ্রেশনের ঝুঁকি কমে।

২) দিনে কফি খাওয়ার ফলে দেহে ২০০-৩০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন শরীরে প্রবেশ করে। এটি মেটাবলিক সিন্ড্রোমের ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে। ওবেসিটির সমস্যা এড়াতে কফি খেতে পারেন।

৩) মদ্যপান ও ধূমপান ছেড়ে দিয়ে যদি কফি খান, তবেই উপকার পাবেন। দিনে ৩ কাপ কফি খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি, হার্ট ফেলিওরের আশঙ্কাও কমে যায়। এমনকী হৃদস্পন্দনের  সমস্যা প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে।

৪) ক্যাফেইনের পাশাপাশি কফির মধ্যে একাধিক বায়োলজিক্যাল অ্যাকটিভ কম্পাউন্ড রয়েছে। এগুলো দেহে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে, যা ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমায় এবং শরীরের ওজন বাড়ায় ও পাশাপাশি মানসিক চাপ কমায়।