কাঁধে করেই ‘লাল-সবুজের’ স্বপ্ন বেচেন তারা 

একদিন পরেই জাতি উদ্‌যাপন করবে মহান বিজয় দিবস। যে দিনটির জন্য জীবন দিয়েছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। তাই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ ও বিজয় উদ্‌যাপনে এ জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। ডিসেম্বর এলেই যার প্রমাণ মিলে সড়কে, বাড়ির ছাদে, গাড়িতেসহ সবখানেই। এ মাসের শুরু থেকেই মানুষ লাল-সবুজের পতাকা কিনে বিজয় উল্লাসের কার্যক্রম শুরু করেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সামনে পতাকা বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি: দেশ রূপান্তর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর ঘিরে তাই একদল দেশপ্রেমিক কাঁধে করে ‘লাল-সবুজের’ স্বপ্ন বেচেন। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে যারা ছোট-বড় পতাকা, লাল-সবুজের হাওয়াই চরকি বিক্রি করেন। মৌসুমি এসব পতাকা বিক্রেতা শুধু অর্থের জন্যই নয়, দেশপ্রেম থেকেই পতাকা বিক্রি করেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়ে ছেন।

মো. আজিজুল ইসলাম, ১০ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীতে ঘুরে ঘুরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন। আজ শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তা মোড়ে দাঁড়িয়ে তিনি পতাকা বিক্রি করছেন। এসময় সিএনজি, রিকশা চালক, পথচারীসহ অনেকেই তার কাছ থেকে পতাকা কিনছেন। ছোট পতাকা একজোড়া ৫০ টাকা, বড় পতাকা ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এছাড়াও তাকে লাল সবুজের হাওয়াই চরকি বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অটোরিক্সায় পতাকা লাগিয়েছেন এক চালক। ছবি: দেশ রূপান্তর

এবছর জাতীয় পতাকা বিক্রি কেমন জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাসের শুরুর দিকে বিক্রি তেমন ছিল না। তবে দিন যতই যাচ্ছে বিক্রি বাড়ছে। তবে বড় পতাকার চেয়ে ছোট পতাকার বিক্রি বেশি। বিশেষ করে অটোরিক্সা, সিএনজি চালকরা গাড়িতে লাগানোর জন্য ছোট পতাকা কিনছেন। এছাড়াও লাল সবুজের হাওয়াই চরকি বিক্রি বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার পতাকা বিক্রি হয়।’

এই বিক্রেতা আরও বলেন, ‘তবে গত বছরের তুলনায় চাহিদা একটু কম। প্রতিবছরই ডিসেম্বর মাস এলেই অন্য কাজ ছেড়ে আমি পতাকা বিক্রি শুরু করি। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে পতাকা বিক্রি করতে ভালই লাগে। মনে হয় আমি লাল-সবুজের স্বপ্ন বেচতাছি। আর শিশুরা পতাকা মাথায় বেধে যখন হাসতে থাকে তখন মনটা আনন্দে ভরে উঠে।’

রাজধানীর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে পাইকারি ও খুচরায় পতাকা বিক্রি করেন মো. সজিব। তিনি  বিভিন্ন আকারের পতাকা, মাথায় বাঁধার জন্য পতাকাসদৃশ রাবার ব্যান্ড, কাগজের পতাকা বিক্রি করেন। এ বছরের পতাকা বিক্রি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পতাকার বিক্রি নেই। মানুষ কিনতে আসে না। কেন আসে না এইডা কইতে পারুম না। তবে ব্যবসা আর আগের মতো নেই।’

মাথায় পতাকা বেধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। ছবি: দেশ রূপান্তর

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ রায়ের বাজার বদ্ধভূমিতে আসেন সর্বস্তরের মানুষ। সেখানে ভ্যানে পতাকা বিক্রি করছেন জলফু মাতবর। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকেই তার কাছ থেকে জাতীয় পতাকা কিনছেন। এই বিক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ সকাল থেকেই জাতীয় পতাকার বেচা কেনা খুবই ভালো। আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করি। এই পতাকা বিক্রির সঙ্গে আমার আবেগ জড়িত। তাই পতাকা বিক্রি ছাড়তে পারি না।’