সময়সীমার মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানকে দেওয়া ৫০ কোটি ডলারের বেশি বাজেট সহায়তা ঋণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের মতে, প্রয়োজনীয় শর্তগুলোর মধ্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর সম্পর্কিত ক্রয় ক্ষমতা চুক্তি সংশোধন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটিও ঘোষণা করেছে, চলতি অর্থবছরে দেশটিকে কোনো নতুন বাজেট সহায়ক ঋণ অনুমোদন করবে না।
বিশ্বব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ২০২৫ সালের জুনে শেষ হতে যাওয়া চলতি অর্থবছরে কোনো বাজেট সহায়তার পরিকল্পনা নেই। চলতি অর্থবছরের জন্য আইএমএফ ২৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক অর্থায়ন ঘাটতি চিহ্নিত করেছে, যা নতুন ঋণের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
২০২১ সালে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার সংক্রান্ত পাকিস্তানের সরকারি প্রকল্প অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ক্লিন এনার্জি প্রোগ্রামের (পেস) অনুমোদন দেয় বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি প্রকল্প গড়ে তুলতে প্রাথমিক ভাবে ১০০ কোটি ডলার ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেয়। সেই ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে ইতিমধ্যে ৪০ কোটি ডলার পেয়েছেও পাকিস্তান। চলতি ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তিতে ৬০ কোটি ডলার আসার কথা ছিল।
তবে দ্বিতীয় কিস্তি প্রদানের আগে ইসলামাবাদকে বেশ কয়েকটি শর্ত দেয় বিশ্বব্যাংক। সিপিইসির অধীনে স্থাপিত চীনা পাওয়ার প্ল্যান্টসহ সব বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর (আইপিপি) সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির অনুলিপি বিশ্বব্যাংককে প্রদান করতে বলা হয়। চীনের আপত্তির কারণে এ চুক্তির কোনো তথ্য সংস্থাটিকে দেয়নি দেশটি।
পাকিস্তানে বর্তমানে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ রুপি। ফলে এটি দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত সবার নাভিশ্বাসের কারণ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের দাম কমাতে ইসলামাবাদ বেসকরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এতে কোনো সুফল দেখা যায়নি।