শিক্ষাজীবনের শেষের দিক থেকেই চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। এতে পরিকল্পনা করে গুছিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। বিষয়ভিত্তিক চাকরির সুযোগ আমাদের দেশে তুলনামূলক কম বলেই চাকরির জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। শিক্ষাজীবনের ভালো ফলাফলের জন্য যেমন নিয়মিত রুটিন করে পড়াশোনা করতে হয় তেমনি চাকরির পরীক্ষার জন্যও একই ধরনের গুরুত্ব নিয়ে এই পড়াশোনাও করতে হবে। লিখেছেন এনাম-উজ-জামান
রুটিন করে নিন : যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি কাজের জন্য রুটিনের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিযগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি সুন্দরভাবে নিতে একটি রুটিন তৈরি করুন। আপনার যদি অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা শেষ হয়ে থাকে তাহলে চাকরির পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিয়েই রুটিন করুন। প্রতিটি বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখবেন। রুটিনে সংবাদপত্র পড়ার ও টেলিভিশনে খবর দেখার জন্যও সময় রাখবেন। এগুলো সাম্প্রতিক বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে সাহায্য করবে।
যদি আপনার অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা শেষ না হয়ে থাকে তাহলে রুটিনটি একটু ভিন্নভাবে করতে হবে। বাৎসরিক ক্যালেন্ডারে দেখে নিন কখন অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার চাপ কম থাকে। তখন চাকরির পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য রুটিন তৈরি করুন। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এ সংক্রান্ত বইপত্র উল্টানোর অভ্যাস রপ্ত করুন। তাহলে পরীক্ষা শেষে চাকরির পড়া জোরেশোরে শুরু করলে সিলেবাস বা পড়াগুলো অচেনা লাগবে না। বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা : অধিকাংশ চাকরির পরীক্ষাতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, সাম্প্রতিক বিষয়াবলি প্রভৃতি বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে। বাংলায় সাহিত্য বিষয়ক এবং ব্যাকরণ অংশ থেকে নানা ধরনের প্রশ্ন থাকে। সাধারণত নবম-দশম বা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাস অনুসরণ করে অধিকাংশ প্রশ্ন আসে।
ইংরেজি বিষয়েও কমবেশি বাংলার মতোই প্রশ্ন হয়ে থাকে। গ্রামারের বিভিন্ন নিয়ম সাফিক্স-প্রিফিক্স, অ্যাপ্রোপ্রিয়েট প্রিপজিশন, গ্রুপ অব ভার্বস, ভয়েজ চেঞ্জ, ন্যারেশন, ফ্রেজ অ্যান্ড ক্লজ প্রভৃতি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এছাড়া ইংরেজিতে লেখার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি বলতে শুধু প্রিলি বা রিটেন এক্সাম নয়, মৌখিক পরীক্ষার জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই এ সময় ইংরেজিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথার বলার চর্চাও করতে হবে।
গণিত বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শ্রেণির গণিত বইয়ের বিভিন্ন অঙ্ক চর্চা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে সব সময় কিছু না কিছু নতুন ধরনের গণিত আসে। সেগুলো পরীক্ষার ধরনের ওপর নির্ভর করে।
বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের বই পাওয়া যায়। যেকোনো একটি বই দিয়ে শুরু করতে পারেন। সেই বই থেকেই আপনি ধারণা পাবেন কোন কোন বিষয়ে আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এরপর বইটি আয়ত্তে এলে অন্য কোম্পানির বই নিয়ে দেখতে পারেন সেখানে বেশি কী কী আছে। পরে সেগুলো আয়ত্ত করতে হবে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
কোচিং : নিজে নিজে প্রস্তুতি নিয়েও অনেকে চাকরির বাজারে ভালো করলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিতে অন্তত একবার একটি সেশনে কোচিং করা উচিত। এর ফলে এমন অনেক সূক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কে জানা যায় যা নিজে নিজে প্রস্তুতি নিলে অজানাই থেকে যেত।
বিসিএস-এর জন্য প্রস্তুতি : অন্যান্য অধিকাংশ চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে যায় যদি আপনি বিসিএস-এর জন্য প্রস্তুতি নেন। কিছু কিছু ছাড়া মূল বিষয় ও সিলেবাস মোটামুটি সব পরীক্ষারই একই রকম। তাই বিসিএস-এর সিলেবাস অনুসরণ করে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পড়াশোনা করলে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন। তবে অমুক চাকরি ছাড়া অন্য কোনো চাকরিতে যোগদান করব না এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়া ভালো।
বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করা : চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার জন্য বারবার সিলেবাস শেষ করতে হয়। মক টেস্ট দিতে হয়। বাজারে বিগত বছরের প্রশ্ন পাওয়া যায় সমাধানসহ। কমপক্ষে দশ বছরের প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। তাহলে সিলেবাস সম্পর্কে যেমন ভালো ধারণা পাবেন তেমনি বুঝতে পারবেন আপনার প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে কোথায়। কোচিং সেন্টারগুলো বিভিন্ন সময় মডেল টেস্টের আয়োজন করে। সেগুলোতেও অংশ নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে অন্যদের সঙ্গে নিজেকে যাচাই করে নিতে পারবেন।
শেষ কথা : চাকরি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পড়াশোনা করাই এখানে সাফল্য লাভের উপায়। এমনকি চাকরি লাভের পরও এই প্রক্রিয়া শেষ হয় না। কাক্সিক্ষত চাকরিটি পেতে আপনাকে এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।