চট্টগ্রামে বাঁশখালীর অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসৈকতে যাতায়াতকারী পর্যটকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বশির উল্লাহ মিয়াজী বাজারের বেইলি ব্রিজে। ব্রিজটি দিয়ে গাড়ি পারাপারে চরম ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় অনেকটা হতাশ হতে হচ্ছে পর্যটকদের। সমুদ্রসৈকতগামী কালীপুর ইউনিয়নের সড়কটি সংস্কারকাজ শুরু হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় এবং বেইলি ব্রিজটির পাটাতন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীসহ পর্যটকদের।
দেশের অন্যতম সুদীর্ঘ সমুদ্রসৈকতটি ঘিরে পর্যটন স্পট বাস্তবায়নের জন্য পর্যটন করপোরেশনের প্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা একাধিকবার সরেজমিনে ঘুরে গেলেও তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কক্সবাজার, পতেঙ্গা বা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ছাড়াও বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি স্বল্প পরিচিত সমুদ্রসৈকত রয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম এটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে সারি সারি ঝাউবন আর সুদীর্ঘ বেড়িবাঁধের ওপর এ সমুদ্রসৈকত সবার মন কাড়ে। বালুময় বেলাভূমি এবং ঝাউবনে ঘেরা বাঁশখালী সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের পর বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত। এটি ছনুয়া, গ-ামারা, বাহারছড়া, সরল, খানখানাবাদ ও কাথরিয়া উপকূল মিলিয়ে ৩৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। দিগন্ত বিস্তৃত সাগরের বুকে সূর্যাস্তের দৃশ্য, লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ ভ্রমণকারীদের আনন্দ দেয়। বর্তমানে এখানে বেশ কিছু দোকানপাটও গড়ে উঠেছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে এবং বড় গাড়িতে এখানে আসার সুযোগ হলে প্রচুর লোক সমাগম হবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা তাফহীমুল ইসলাম বলেন, বাঁশখালীর সমুদ্রসৈকতটিকে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা জোরদার করলে পর্যটকদের জন্য সুবিধা হবে। তবে তিনি মোটর বাইকারদের উৎপাত নিরসনে প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান।
গাড়িচালক জসীম জানান, বশির উল্লাহ মিয়াজী বাজারের বেইলি ব্রিজটির পাটাতন বারবার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরুরি ভিত্তিতে এ ব্রিজটি সংস্কার করলে গাড়ি চলাচলে ভোগান্তি কমত।
ব্যবসায়ী কলিম উদ্দিন আপন বলেন, মিয়াজী বাজারের এ ব্রিজটির পাটাতন বারবার নষ্ট হওয়ায় সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আর যেসব পর্যটক না জেনে বড় গাড়ি নিয়ে আসেন, তাদের আরও বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থে এ ব্রিজটি স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, ব্রিজটি সংস্কারে অচিরেই কাজ শুরু হবে। আর রাস্তার বেশ কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশের কাজও শুরু হবে বলে জানান তিনি।