মেহেদির ক্যারিয়ারসেরা নৈপুণ্যে উইন্ডিজে বিজয়োৎসব বাংলাদেশের

৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৪ শিকার, ক্যারিয়ারসেরা বোলিং উপহার দিলেন শেখ মেহেদি হাসান। তাতে ১৪৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় ৬১ রান তুলতেই সাজঘরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৭ ব্যাটসম্যান। এরপরও ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন স্বাগতিক অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। তবে শেষরক্ষা হয়নি তাদের। ১ বল বাকি হাতে রেখে জয় থেকে ৭ রান দূরে থাকতেই অলআউট হতে হয় টি-টোয়েন্টিতে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। বিজয়ের দিনে সেন্ট ভিনসেন্টে বিজয় উৎসবে মেতে ওঠার দারুণ উপলক্ষ্য পেয়ে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। 

কিংসটাউনের আর্নস ভেল গ্রাউন্ডে টসভাগ্য পাশে পাননি নাজমুল হোসেন শান্তর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব সামলানো লিটন দাস। তাই রভম্যান পাওয়েলের সিদ্ধান্তে আগে ব্যাটিংয়ে নামতে হয় বাংলাদেশকে। সৌম্য সরকারের ৪৩ ও শামীম হোসেনের ঝড়ো ২৭ রানের সৌজন্যে ১৪৭ রান তোলে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা ক্যারিবিয়ানদের সামনে যে লক্ষ্যটিকে সাদামাটাই বলা যায়। বিজয়ের দিনে নিজেদের জ্বলে ওঠা বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা জিইয়ে রেখেছিলেন দ্বিতীয় ইনিংসের জন্যে। বিশেষ করে শেখ মেহেদি হাসান। মেহেদি বারুদের সলতেতে আগুন জ্বালানোর কাজটি করে দেন তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই ফেরান ব্র্যান্ডন কিংকে। তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন মেহেদি। এসেই তুলে নেন নিকোলাস পুরানের উইকেট।

পঞ্চম ওভারে ১২ বলে ২০ রান করা জনসন চার্লসকে ফেরানোর পর সপ্তম ওভারে হানেন জোড়া আঘাত। এক বলের ব্যবধানে সাজঘরে পাঠান আন্দ্রে ফ্লেচার ও রোস্টন চেজকে। তানজিম হাসান সাকিব গুডাকেশ মোতি এবং রিশাদ হোসেন আকিল হোসেইনের উইকেট তুলে নিলে ৬১ রানে ৭ উইকেট খুঁইয়ে বসে উইন্ডিজরা।

সেখান থেকে ম্যাচের হাল ধরেন রভম্যান পাওয়েল। রোমারিও শেফার্ডকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড ৬৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। দেদারসে রান দিয়ে ম্যাচটি ফসকে যাওয়ার উপক্রম করেছিলেন তানজিম। ৪ ওভারে ৪৭ রান হজম করেন তিনি। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত করেন তাসকিন। ১৭ বলে ২২ রান করা শেফার্ডকে রিশাদের ক্যাচে পরিণত করেন।

শেষ ওভারে উইন্ডিজদের জিততে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। বোলিংয়ে আসেন হাসান মাহমুদ। সিঙ্গেল নিয়ে পাওয়েলকে স্ট্রাইকে এনে দেন আলজারি জোসেফ। পরের বলটি হয় ডট। ৪ বলে ৯ রানের সমীকরণের মুখে লিটনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন স্বাগতিক অধিনায়ক। তাতে পাওয়েলের ৪ ছক্কা ও ৫ চারে ৩৫ বলে ৬০ রানের ক্যামিও ইনিংস সমাপ্তি হয়। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫টি ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন লিটন।

এক বল পর আলজারির স্টাম্প উপড়ে দেন হাসান। বিজয় দিবসে ক্রিকেট সমর্থকদের ৭ রানের জয় উপহার দেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। মেহেদির ৪টি, হাসান ও তাসকিন ২টি এবং তানজিম ও রিশাদ ১টি করে শিকার ধরেন। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ম্যাচসেরা হন মেহেদি।