মহান আল্লাহ আমাদের মধ্যপন্থি জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এমনিভাবে আমি তোমাদের মধ্যপন্থি সম্প্রদায় করেছি।’ (সুরা বাকারা ১৪৩) মধ্যপন্থা অবলম্বন করা সুখময় জীবনের অন্যতম সোপান। চলাফেরা, কথাবার্তা কিংবা আয়-ব্যয় সর্বক্ষেত্রেই তা জরুরি। আয়-ব্যয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাকেই বলে মিতব্যয়িতা। অর্থাৎ অপচয়ও না করা এবং কৃপণতাও না করা। মিতব্যয়ী না হলে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেও সুখী হওয়া সম্ভব নয়।
মহান আল্লাহ অপচয়কারীকে ভালোবাসেন না। মহান আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতে ডুবে আছে মানুষ। এসব নেয়ামত প্রয়োজন অনুপাতে ভোগ করাই ইসলামের শিক্ষা। মিতব্যয়ী হওয়া ও অপচয় রোধের জোর তাগিদ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো। তবে অপচয় করো না। তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ ৩১)
অপচয়কারী শয়তানের ভাই। পোশাক-পরিচ্ছদ আর খাবারের ক্ষেত্রে অপচয় এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অথচ তা শয়তানের কর্মকাণ্ড। যে ব্যক্তি শয়তানি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় সে শয়তানের ভাই হিসেবে গণ্য হয়। মহান আল্লাহ এটাই বলেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল ২৭)
মিতব্যয়ী ব্যক্তি মহান আল্লাহর প্রিয়। মহান আল্লাহ কোরআনে তার প্রিয় বান্দাদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, ‘তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না। বরং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী পন্থা গ্রহণ করে।’ (সুরা ফুরকান ৬৭)
অপচয়রোধে নবীজির সতর্কতা সম্পর্কে হাদিসে পাওয়া যায়, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) সাদ (রা.)-কে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি অজু করছিলেন। তিনি বলেন, এই অপচয় কেন? সাদ (রা.) বলেন, অজুতেও কি অপচয় আছে? তিনি বলেন, হ্যাঁ, যদিও তুমি প্রবহমান নদীতে থাকো। (ইবনে মাজাহ ৪২৫)
মহান আল্লাহ পরকালে আমাদের সারা জীবনের সব বিষয়ের হিসাব-নিকাশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নেবেন। তাই আমাদের কর্তব্য হলো, দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যেক কাজকে যথাযথভাবে সম্পাদিত করা। যেভাবে সম্পাদন করতে ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ খরুচে ও
কৃপণতার পথ পরিহার করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। তাহলে আমাদের দুনিয়ার জীবন হবে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল। আর পরকালে আমাদের জন্য থাকবে মহাসফলতা।