ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো বিজয় দিবস উদযাপন করেছে জাতি। স্বাভাবিকভাবেই সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। সেই ভিড়ের মধ্যে পড়ে অসুস্থ হয়ে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তাকে দ্রুতই নেওয়া হয় সাভার সেনানিবাসে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। সেখানে দুই ঘণ্টার অধিক সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর গুলশানের বাসায় যান বিএনপির এই নেতা। বর্তমানে সম্পূর্ণ বিশ্রাম রয়েছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহীদ বেদিতে ফুল দেওয়ার পর ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেখান থেকে একটু সামনেই অপেক্ষা করছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী। মির্জা ফখরুল সংবাদকর্মীদের ক্যামেরার সামনে এসে অসুস্থতা বোধ করতেই মেঝেতে বসে পড়েন। তখনো তাকে দেখার জন্য অসম্ভব ধরনের ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘিরে ভিড় করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরাও। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও অসুস্থ হয়ে মেঝেতেই লুটিয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। তখন মির্জা ফখরুলের মাথায় পানি দিতে দেখা যায় কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে। পরে তাকে তুলে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করেন নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, স্মৃতিসৌধের ভেতরে থাকা একটি টেলিভিশনের চ্যানেলের গাড়িতে করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মির্জা ফখরুলের সঙ্গে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহাসচিব বাসায় পৌঁছেছেন। আলহামদুলিল্লাহ মহাসচিব সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। এখন তিনি বাসায় বিশ্রামে আছেন। সাভার সিএমএইচে ওনার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টগুলোর ফলাফল ভালো। সিএমএইচের চিকিৎসকরা রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বিএনপি মহাসচিবকে বাসায় যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছেন।’
জাহিদ বলেন, ‘হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। এত ভিড় ছিল, যা না দেখলে বোঝানো সম্ভব নয়। এই ভিড়ের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংয়ের জন্য যখন যাচ্ছিলেন, তখনই এ ভিড়ের চাপে মহাসচিব অসুস্থ হয়ে বসে পড়েন। দলের নেতারা দ্রুত তাকে ধরাধরি করে গাড়িতে তুলে সিএমিইচএ নিয়ে আসি। আল্লাহর রহমতে হাসপাতালে আসার সঙ্গে সঙ্গে কমাডেন্ট, মেডিসিন, হৃদরোগ, আইসিইউসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মহাসচিবের চিকিৎসা দ্রুত শুরু করেন, কয়েকটি পরীক্ষাও করেন।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসুস্থ হয়েছেন জেনে দ্রুত নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান সিএমএইচে আসেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।