রেফ্রিজারেন্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত আর-২২ গ্যাস আমদানিকারক চক্র বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছে গ্রাহকদের কাছ থেকে। এই গ্যাসসংক্রান্ত ব্যবসায় জড়িত না হয়েও একেকজন তিন-চারটা লাইসেন্স নিয়েছেন। এমনকি আমদানি করা গ্যাস পরিকল্পিতভাবে মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে তিন-চার গুণ বেশি মূল্যেও বিক্রির ঘটনা ঘটছে একই চক্রের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালে এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার। ওই নীতিমালা অনুসারে নির্দিষ্ট ৫১টি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানকে আর-২২ গ্যাস আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়।
সুবিধাবাদী কিছু অসৎ ব্যবসায়ী প্রভাব খাটিয়ে ওই নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। তারা একেকজনের নামে একাধিক লাইসেন্স নেন। এই গ্যাসের আমদানি ও বাজার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বৈষম্য, অসঙ্গতি উল্লেখ গত ১৫ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করে নীতিমালা সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আরএসি মালিক কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন (বিআরএসি)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৫১ জন লাইসেন্সধারী বাজারে আর-২২ গ্যাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার থেকে প্রতি বছর ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চক্রটি অস্বাভাবিকভাবে মূল্য বৃদ্ধি করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করেছে। আর-২২ গ্যাসের সিলিন্ডারের আমদানিমূল্য ৭ হাজার ৫০ টাকা হলেও গড় বাজারমূল্য ২৫ হাজার ৩০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে।