যুবদল নেতা হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু ইলিয়াস শান্ত সরকার (৩৫) হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে আসামিদের বিচারের আওতায় আনতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

সকাল ১০টার দিকে শহরের জগদ্ধাত্রী পাড়া এলাকার মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে চরকেওয়ার ইউনিয়ন ও চরমুশুরা গ্রামবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়। আধা ঘণ্টার মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের থানারপুল চত্বরের জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা অবরোধের কারণে সড়কে যানজট তৈরি হয়।

সড়ক অবরোধ চলাকালে নিহত যুবদল নেতার মা মাকসুদা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় দেড়-মাস অতিবাহিত হলেও আসামিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে না পারলে সদর থানা ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নিহতের স্ত্রী শান্তা বেগম বলেন, ‘এ হত্যার বিচারের ক্ষেত্রে বিএনপি ও যুবদলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানা বলেন, ‘যুবদল নেতা শান্ত ছিল শান্ত প্রকৃতির মানুষ। অন্যের উপকার করত বরাবরই। এজন্য জনপ্রিয় ছিল। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার বিচার চান সবাই।’

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজীব দে বলেন, এ হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, যুবদল নেতা শান্ত সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মামুন সরকার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শান্ত সরকার। পুলিশ বলছে, মেঘনা নদীতে স্পিডবোট ও ট্রলারের সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তবে পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শান্ত সরকার নদীতে যায়নি।