৪০০ কোটির সেই পিয়নের হাজার কোটি লেনদেন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, তার একজন পিয়ন দুর্নীতি করে ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সেই পিয়ন (ব্যক্তিগত সহকারী-পিএ) জাহাঙ্গীর আলমের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ১ হাজার ২৫১ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে। এর বাইরে তার আর কী কী সম্পদ রয়েছে, তা তদন্ত পর্যায়ে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।

গতকাল মঙ্গলবার এই মামলা করা হয়েছে বলে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, তার একজন পিয়ন দুর্নীতি করে ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার সেই পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম ২০২০-২১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শেখ হাসিনার পরিচয় দিয়ে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন তদবির করতেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির ৪০০ কোটির সেই পিয়নের হাজার কোটি লেনদেনমাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ পায় দুদক। এরপরই সংস্থাটি ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার ১৮ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার ৮৮২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে ৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪২টি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তাদের দুদকের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগ দখলে রাখার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানকালে জাহাঙ্গীর আলমের নামে ৮টি ব্যাংকের ২৩টি হিসাবে ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ১০৭ টাকা জমা এবং ৬২৪ কোটি ৬০ লাখ ১৫ হাজার ৬৭১ টাকা উত্তোলনসহ মোট ১ হাজার ২৫১ কোটি ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৮ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে। মামলার তদন্তকালে এসব তথ্য খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে ৪১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাবেক প্রধান হারুন, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা এবং ৩ কোটির বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

ডিবিপ্রধান হারুন, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা : অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষগ্রহণের মাধ্যমে ৪১ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ৯৫৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, তার স্ত্রী ও ভাই শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ১৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা ভোগ দখলে রাখার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া তার স্ত্রী শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং ভাই এ বি এম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা হয়েছে।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা : অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও তার স্ত্রী ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মজিবুল হাসান চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ৬১৬ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ দখলে রাখার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার ৪১টি ব্যাংক হিসাবে ২১১ কোটি ২০ লাখ ৩ হাজার ৭৯৫ টাকা লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া তার স্ত্রীর ইমা ক্লেয়ার বার্টন অবৈধভাবে ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ১২৮ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগ দখলে রাখার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে।