কাউন্সিলরের বদলে প্রশাসক চায় না ছাত্র আন্দোলন

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, ‘আমরা প্রশাসক দিয়ে দেশ চলতে দেখতে চাই না। আমলারা আমলাতন্ত্রে তাদের যতটুকু টেরিটোরি, তারা সেখানে কাজ করবেন। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সঙ্গে তাদের যতটুকু পরিধি, সেখানে কাজ করবেন। এই কম্বিনেশন যদি না থাকে, তাহলে দিন শেষে যেভাবে রাষ্ট্রের ফাংশন করার কথা, সেভাবে ফাংশন করা সম্ভব নয়।’

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশ সিটি ও পৌর কাউন্সিলর কর্তৃক ছাত্র-গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সিটি এবং পৌর কাউন্সিলরদের জনস্বার্থে পুনর্বহালের দাবি ও বর্তমান সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে’ আয়োজিত কাউন্সিলর সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

কাউন্সিলরদের উদ্দেশে সারজিস বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে যে জিনিসটা পেতে চাই, আপনাদের (কাউন্সিলর) মধ্যে এমন কারও কথা আগামীতে যেন আমরা না শুনি, যারা ক্ষমতা পেয়ে আবার সেই ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে জনগণের সঙ্গে স¤পৃক্ত, তাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্দশা যেভাবে বোঝেন, তাদের সঙ্গে যেভাবে মিশেন, সেটা কোনো আমলা কেন যারা ওই বিভিন্ন অফিসে বসে থাকেন, যত বড় অফিসারই হোক না কেন, তাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব না।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা এখানে যারা বসেছি, সবাই একটি বিষয়ে একমত না সেটা হচ্ছে, কাউন্সিলরদের পরিবর্তে যে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার নিয়োগ করা হবে, এ বিষয়ে আমরা একমত না। এটা আমাদের স্পষ্ট অবস্থান। কারণ এই যে একটা আমলাতান্ত্রিক কাঠামো রয়েছে, এই কাঠামোতে আমাদের যে হালচাষ করা ভাই আছেন, যে তাঁতি আছেন, কামার, কুমার, রেমিট্যান্সযোদ্ধা, গার্মেন্টসকর্মী আছেন, তারা এই অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেতে চান না। তারা যেতে চান না বলেই তারা আপনাদের (কাউন্সিলর) নির্বাচিত করেছেন।’

অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভদের দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের অভাব পূরণ সম্ভব না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রতিনিধি এমন হবে, যার সঙ্গে আমার প্রতিদিন চায়ের দোকানে দেখা হবে। যার সঙ্গে আমার বাজারে গেলে দেখা হবে। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এমন সম্পর্কই আমরা চাই। তাই আমরা বলতে চাই, ৯টা-৫টা অফিস করা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভদের দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের অভাব কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব না।’

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা জনগণের হাজার হাজার ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেড় দশক ধরে আন্দোলন করে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। জনগণের পাশে থেকে সারাজীবন রাজনীতি করেছি। জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিস্ট সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে থেকেছি। রাজপথে থেকেই ছাত্র-জনতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছি। যারা ফ্যাসিবাদের সমর্থক, যারা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী, তাদের পদচ্যুত করার পক্ষে আমরা। কিন্তু আমরা যারা ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যার বিপক্ষে রাজপথে সোচ্চার ছিলাম, তাদের অনতিবিলম্বে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় পুনর্বহাল করা হোক।’

বাংলাদেশ সিটি করপোরেশন কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জাহিদের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ পৌর কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ সিটি করপোরেশন কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম কিবরিয়াসহ সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন এলাকার কাউন্সিলররা।