যশোরের শার্শায় ভারত সীমান্তে কুপিয়ে ও পিটিয়ে তিন বাংলাদেশি যুবককে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুজনের মরদেহ গতকাল বুধবার সীমান্ত থেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সীমান্ত এলাকা থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে স্বজনরা বাড়িতে আনার পর অন্য যুবকের মৃত্যু হয়। তিনজনেরই একই ধরনের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে।
এই তিনজনের হত্যার কারণ জানতে চাইলে বিজিবি ও পুলিশের কোনো কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে এই তিনজনকে হত্যা করেছেন। বিজিবি কর্মকর্তারা বলেন, বিএসএফের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ভারতের ভেতরে ঢুকে চোরাচালানের মাধ্যমে জিরা আনতে গিয়েছিলেন একসঙ্গে পাঁচজন। এর মধ্যে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। অন্য দুজন এখনো নিখোঁজ।
নিহত তিনজনের মধ্যে গতকাল বিকেলে সর্বশেষ লাশ উদ্ধার হয় সাকিবুর রহমানের (২০)। তিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলার শাহজাদপুর গ্রামের জামিনুর রহমানের ছেলে। শৈশব থেকেই শার্শা উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামে নানাবাড়িতে থাকতেন। তার লাশটি শার্শার রুদ্রপুর সীমান্ত থেকে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার করে শার্শা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহত অন্য দুজন হলেন শার্শা উপজেলার কাগজপুকুর গ্রামের ইউনুস মোড়লের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩৩) এবং দীঘিরপাড় গ্রামের আরিফ মোড়লের ছেলে শাহাবর আলী (৩৫)। এর মধ্যে সকালে জাহাঙ্গীরের মরদেহ তার বাড়ি থেকে বেনাপোল থানা পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তারও আগে শাহাবরের মরদেহ শার্শা সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার করে বিজিবি শার্শা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
তিনটি লাশের মধ্যে শার্শা থানা পুলিশ দুটি এবং বেনাপোল থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানের একটি লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হবে।
সীমান্তে তিন বাংলাদেশি যুবক হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল বন্দর থানার ওসি রাসেল মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরাও এমন তথ্য পেয়েছি। তবে কারা কারা ওই রাতে গিয়েছিল (ভারতে), কেউ স্বীকার করছে না।’
বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, সকালে সীমান্তের ইছামতী নদীতে একজনের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন খুলনা ব্যাটালিয়নের (২১ বিজিবি) সদস্যদের খবর দেন। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে বেওয়ারিশ অবস্থায় শার্শা থানা পুলিশের কাছে লাশটি হস্তান্তর করেন। নিহতের মাথার পেছনের অংশে জখমের চিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে বেনাপোল থানা পুলিশ শার্শা উপজেলার কাগজপুকুর গ্রামের ইউনুস মোড়লের বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আর বিকেলে রুদ্রপুর সীমান্ত থেকে আরও একটি লাশ উদ্ধার করে বিজিবি সদস্যরা শার্শা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, রাতে জাহাঙ্গীর, সাকিবুর, শাহাবরসহ কয়েকজন একসঙ্গে ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের ভেতরে ঢোকেন। তখন বিএসএফ সদস্যরা তাদের কুপিয়ে ও মারধর করে ইছামতী নদীতে ফেলে দেন। সেখান থেকে জাহাঙ্গীরকে তার স্বজনরা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশকে না জানিয়ে সকালে জাহাঙ্গীরের লাশ দাফনের চেষ্টা করেন পরিবারের স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তিন বাংলাদেশি হত্যার বিষয়ে বিএসএফের কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বিজিবি খুলনা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খুরশিদ আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে বিএসএফের কাছে জানতে চাইলে তাদের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।’