ওয়ানডেতে নিষ্প্রভ হয়ে থাকার পর বাংলাদেশের বোলাররা ফরম্যাট বদলে টি-টোয়েন্টিতে হয়ে উঠলেন বিষধর। প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো দ্বিতীয়টিতেও ‘ফেরিওয়ালা’ খ্যাত উইন্ডিজ মারকুটে ব্যাটসম্যানদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে জিতে নিলেন ম্যাচ। সেই সঙ্গে সিরিজও। সেন্ট ভিনসেন্টে বোলারদের সম্মিলিত কৃতিত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে হারিয়ে সিরিজ জেতা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
বিদেশের মাটিতে দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। সবশেষ ২০২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তাদের মাটিতে হারিয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালে উইন্ডিজকে তাদের মাটিতেই ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সিরিজে হারিয়েছিল লাল সবুজের জার্সিধারীরা।
আগের ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও পাওয়ার প্লেতে তাসকিন আহমেদ ও শেখ মেহেদি তাদের ঝলক দেখান। দুজনের জোড়া শিকারে পাওয়ার প্লেতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে উইন্ডিজ। এরপর কম যাননি অন্যরাও। যার হাতেই বল তুলে দেওয়া হয়েছে নিজের সেরাটুকু দিয়েছেন।
৪২ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর নিজেদের গুটিয়ে নেন উইন্ডিজ দুই ব্যাটার রোস্টন চেজ ও আকিল হোসেইন। ১৫ ওভার পর খোলস ছেড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন রোস্টন। হাসানকে দুটো আর রিশাদকে একটা ছক্কা হাঁকান। তার বদলা রিশাদ নেন পর পর দুই বলে রোস্টন ও গুডাকেশ মোতির উইকেট শিকার করে।
শেষ দুটি উইকেট নেন তানজিম সাকিব ও তাসকিন। ৯ বল বাকি থাকতে ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায় উইন্ডিজ। তাসকিন ৩টি, মেহেদি, তানজিম ও রিশাদ ২টি করে ও হাসান ১টি উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শামীম হোসেনের দুটি করে চার-ছক্কায় ১৭ বলে ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৭ উইকেটে ১২৯ রান তুলে বাংলাদেশ। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। এছাড়া আফিফ হোসেনের জায়গায় একাদশে আসা মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫ বলে ২৬ এবং জাকের আলী ২০ বলে ২১ রান করেন। আগের ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার সৌম্য সরকার থামেন ১৮ বলে ১১ রান করে।
লিটন দাসের খারাপ ফর্মও কাটেনি। ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ১০ বল খেলে করেন মাত্র ৩ রান। তবে শান্তর বদলে নেতৃত্বে এসে বাংলাদেশকে আরেকটি সিরিজ জয়ের আনন্দ এনে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।