যাপিত জীবনে মানুষের অভ্যাসই নির্ধারণ করে দেয় সে সফল হবে নাকি ব্যর্থ হবে। বদভ্যাসগুলোকে ইতিবাচক অভ্যাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারলেই দেখা মিলবে কাক্সিক্ষত সাফল্যের। লিখেছেন এনাম-উজ-জামান
অলসতা নয়-উচ্চাকাক্সক্ষা : অলসতা উচ্চাকাক্সক্ষাকে হত্যা করে। অলসতার ফলে সময়ের কাজ সময়ে হয় না। ফলে সুযোগ সৃষ্টি হলেও তাকে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। কিন্তু অলসতাকে যদি আপনি উচ্চাকাক্সক্ষা দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে, জীবনে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। জীবনের উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করে যদি সেটি হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন, তাহলে অলসভাব কেটে যাবে, কাজে উৎসাহ পাবেন।
ক্রোধ নয়-বিজ্ঞতা : কথায় বলে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। রাগান্বিত অবস্থায় আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, তা অধিকাংশ সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিই, হঠকারী সিদ্ধান্ত নিই; যার জন্য ভুগতে হয় দীর্ঘদিন। তাই রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে। ক্রোধের বশে নয়, মাঠা ঠা-া করে বিজ্ঞতা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ক্রোধ মানুষের মৌলিক একটি আবেগ। পারিপার্শ্বিক নানা কারণে আমরা রেগে যাই। কিন্তু রাগকে নগ্নভাবে প্রকাশ করা উচিত নয়। রাগকে সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দিলে তা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে জ¦ালানি হিসেবে কাজ করে।
অহম নয়-উন্নতি : মানুষের যে কয়টি নেতিবাচক অনুভূতি উন্নতি থেকে দূরে রাখে তার মধ্যে অহম অন্যতম। অহমের কারণে আমরা অন্যের ভালো গুণকে স্বীকার করি না। বরং সেই ভালো গুণের মধ্যেও নেতিবাচক কোনোকিছু বের করার চেষ্টা করে তাকে ছোট করার চেষ্টা করি। এর ফলে, ওই ব্যক্তির সঙ্গে যেমন একটি বৈরীভাব সৃষ্টি হয়, তেমনি ভবিষ্যতে তার থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়ার পথও হয় রুদ্ধ, যা আমাদের উন্নতির পথে বড় অন্তরায়। কিন্তু অহমকে দূর করতে পারলেই অন্যের যেকোনো ইতিবাচক গুণ আমরা আয়ত্ত করতে পারব, যা লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
ঈর্ষা নয়-প্রশান্তি : নিরবচ্ছিন্ন ও নিমগ্নভাবে কাজ করার জন্য মানসিক প্রশান্তি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই প্রশান্তির অন্যতম প্রধান শত্রু হলো ঈর্ষা। অন্যের উন্নতি, সুখ প্রভৃতি দেখে আমাদের মনে যে বিতৃষ্ণাভাব জাগে তাই ঈর্ষা। ঈর্ষা মানসিক শান্তি নষ্ট করে। ফলে আমরা নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে ফেলি। কাজে মন বসে না। কিন্তু আমরা যদি আমাদের বর্তমানকে মেনে নিয়ে উন্নতির জন্য চেষ্টা করি, তাহলে ঈর্ষা থেকে মুক্তি পেতে পারি, মনও প্রশান্ত হবে।
দ্বিধা নয়-আত্মবিশ্বাস : দ্বিধা আমাদের নতুন পদক্ষেপ নিতে বাধা দেয়। ফলে সঠিক সময়ে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি না। সাফল্য রয়ে যায় অধরা। এই দ্বিধাকে আত্মবিশ্বাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করলেই আমরা সাহস করে লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারব। কোনো বিষয়ে উদ্যোগ নিতে যদি দ্বিধা আসে, তাহলে চিন্তা করতে হবে এই দ্বিধা কী প্রস্তুতির খামতি থেকে উদ্ভূত? যদি তাই হয়, তাহলে ঘাটতি পূরণ করে উদ্যোগ গ্রহণ করুন।