জামায়াত আমির বললেন

নারীদের বোরকা পরতে বাধ্য নয় উৎসাহিত করব

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৯ কোটি বোরকা বানানোর টাকা নেই আর থাকলেও তা করব না। নারীরা কোন পোশাক পরবে কি পরবে না, তা নির্ধারণ তারাই করবে। বোরকা পরতে বাধ্য করব না, আমরা কেবল উৎসাহিত করতে পারি। কোন রঙের বোরকা পরবে, কালো নাকি খয়েরি নাকি অন্য ধর্মের নারীদের পোশাক, সেটি তারাই নির্ধারণ করবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে কেরানীগঞ্জে জামায়াতের ঢাকা জেলার কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিয়ে অপপ্রচার আছে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীদের তালাবদ্ধ করে রাখা হবে। রাসূল (সা.) যা করেননি, আমরা তা করার সাহস কোথা থেকে পাব? আর এত তালা আমরা কোথায় পাব? আমরা ক্ষমতায় গেলে কোরআনের ভিত্তিতে যে দেশ হবে, সেখানে মা-বোনরা ইজ্জতের সঙ্গেই চলবেন। নারীরা তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করবেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা এনেছিল তারা জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে। আর তাই ফল হিসেবে তাদের পালাতেও হয়েছে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আমারা নীতিশাসক হয়ে জালিম হতে চাই না, আমরা সেবক হতে চাই। আমরা বৈষম্য ভাঙতে চাই।

নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের সমালোচনাও করেছেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা ১৭ বছর অপেক্ষা করেছি। অন্যায়-দুর্নীতি সংস্কারের পর আমরা নির্বাচন চাই। তবে বর্তমান সরকার যেন সংস্কারের জন্য একটি সেকেন্ডও বেশি সময় ব্যয় না করে। আমরা ক্ষমতার জন্য অস্থির নই।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকার জোর করে ক্ষমতায় আসেনি। দেশবাসী তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি। এটা বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা।’

ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পরিচালক সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

একই দিন সন্ধ্যায় রাজধানীর শেওরাপাড়ায় মনিপুর স্কুলে স্থানীয়দের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদাবাজি আর দখলদারিত্বের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি আর দখলদারিত্ব আগেও চলেছে এখনো চলছে। ভালোটা হলো কি। আমরা এগুলো দেখতে চাই না। তবে রাষ্ট্র উদ্যোগ নিলে আমরা সঙ্গে আছি। আর ভবিষ্যতে আমরা ক্ষমতায় গেলে এসব দুষ্টুমি করতে দেব না।’

কাফরুল পশ্চিম থানা আমির আবদুল মতিন খানের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মাওলানা আতিক হাসান রায়হানের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম।