ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তি এখন খুবই সহজলভ্য। ফলে যাবতীয় তথ্য আদান-প্রদান করা যাচ্ছে খুব সহজেই। এতে অনেকেই বুঝে না বুঝে, কিংবা কারও প্রতি প্রতিহিংসা মনোভাব থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। যা অনলাইনের মাধ্যমে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে অনেক পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম-সুখ্যাতি ও যাবতীয় অর্জন বিনষ্ট হচ্ছে। এ জাতীয় মিথ্যা অপপ্রচার বা বাস্তবে সংগঠিত হওয়া জঘন্যতম অপরাধকে স্ক্যান্ডাল বলে আখ্যায়িত করা হয়।
স্ক্যান্ডাল ইংরেজি শব্দ। এর অর্থ নিন্দাজনক কোনো কাজ, ঘটনা বা কেলেঙ্কারির খবর। গুজব, কুৎসা, অপবাদ, কলঙ্ক, অসতর্ক রূঢ় কথাবার্তা, যা কারও সুখ্যাতি নষ্ট করে ইত্যাদি। মোটকথা, স্ক্যান্ডাল বলতে বোঝায়, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ বা আপত্তি তোলা, যাতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্মান নষ্ট হয়। ভিকটিমকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই মূল উদ্দেশ্য থাকে। এমন অন্যায় আচরণের শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ জন্য প্রশাসন এসব নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু জনসম্মুখে এসব তথ্য বলা, সংবাদ প্রচার করা থেকে বিরত থাকবেন। এ ছাড়া শাস্তি প্রয়োগ করতে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। ব্যক্তির বদনামের বিষয়টি জনসম্মুখ থেকে আড়াল করতে হবে। যাতে তার মান-সম্মান নষ্ট না হয়। এক্ষেত্রে ইসলামি স্কলারদের সুচিন্তিত মতামত অনুসরণ করাই অধিক যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করি। এ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে অন্যায় কথা, অসত্য কথা, বিকৃত তথ্য, হিংসা-বিদ্বেষ ও সম্মানহানির কথা প্রচারিত হচ্ছে, এগুলো শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত নিন্দনীয় জঘন্য কাজ। আর প্রত্যেক ব্যক্তির মন্দ আচরণের কারণে প্রত্যেককেই তার প্রতিফল ভোগ করতে হবে। অর্থাৎ মন্দ কাজের প্রতিফল মন্দ হবে। উপযুক্ত শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।
এক্ষেত্রে ইসলামের সৌন্দর্য ও আদর্শ কত সুন্দর। লক্ষ করুন, কোনো মানুষের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ না করাই ইসলামের সৌন্দর্য। যা বর্তমানে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়! অতএব মন্দ কাজকে আমরা ঘৃণা করব। কিন্তু পাপীকে অবজ্ঞা করব না। বরং তার মন্দ কাজ ও পাপকে গোপন করে রাখব। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। (সহিহ মুসলিম)
রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, দুনিয়াতে যে লোক তার কোনো ভাইয়ের একটি বিপদ দূর করবে, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তার একটি বিপদ দূর করবেন। আর যে লোক কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ ইহকালে ও পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীর কষ্ট দূর করবে, ইহকালে ও পরকালে তার কষ্ট আল্লাহ দূর করবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহতায়ালা বান্দার সহায়তা করতে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার কোনো ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে। (তিরমিজি) আল্লাহতায়ালা আমাদের অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রেখে তাদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণœ রাখার তওফিক দান করুন।