ইউরোপে পোশাকের বড় প্রবৃদ্ধি

বাংলাদেশের পোশাক খাতে নানা ধরনের অস্থিরতার মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুধু অক্টোবরেই অন্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের বাজারে পোশাকের চাহিদা বাড়ায় সুযোগ লুফে নিয়েছে দেশের পোশাক খাত। অক্টোবর মাসেই ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩৪ শতাংশ, যেখানে প্রতিযোগীদের প্রবৃদ্ধি ২০ থেকে ২৩ শতাংশের মধ্যে। তবে এ মহাদেশে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দাম কমেছে ৪ শতাংশের বেশি। ইউরোস্ট্যাটের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের টেক্সটাইল ও পোশাক আমদানির চাহিদা বেড়েছে। এ দেশগুলোর চাহিদা বাড়ায় সুযোগ সবচেয়ে বেশি নিয়েছে বাংলাদেশ। এ দেশগুলোয় পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের। সেখানে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছাড়িয়েছে ৩৪ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান এবং চীনের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ থেকে ২৩ শতাংশের মধ্যে।

ইউরোপের বাজারে সর্বশেষ দ্বিতীয়ার্ধে পোশাকের চাহিদা বাড়লেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কি না, শঙ্কা এখনো থেকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউরোস্ট্যাট।

ট্রাম্পের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন দেশের রপ্তানি সুযোগ বাড়তে পারে ইউরোপে। এর প্রভাব আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঘন ঘন সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতের চাহিদাতে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা যোগ করতে পারে বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ইইউ টেক্সটাইল এবং পোশাক আমদানি চাহিদা পুনরুদ্ধার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইইউতে রপ্তানি করা পোশাকের প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে ইইউতে মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই চীনের। এরপরই অবস্থান করছে তুরস্ক। ১৩ দশমিক ১ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দেশটি রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। ১১ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ার নিয়ে সেখানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৭৮ শতাংশের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি। ইইউর পরিসংখ্যান অফিস ইউরোস্ট্যাটের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইইউ অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে ১৮২ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা ২০২৩ সালের একই মাসে ১৩৬ কোটি ডলার থেকে বেশি।

রপ্তানিকারকরা রপ্তানির এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলছেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রয়াদেশ বাড়ার কারণে তাদের এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে তারা উল্লেখ করেছে, অক্টোবরে প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছিল। জুলাই এবং আগস্ট মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং শ্রম অসন্তোষে শিপমেন্ট বিলম্বের কারণে আংশিকভাবে এই উত্থান ঘটেছে। ফলে সেপ্টেম্বরে ক্রয়াদেশের ক্ষতি কিছুটা পূরণ হয়েছে এবং পরে অক্টোবরের শক্তিশালী পরিসংখ্যানে অবদান রেখেছে। অক্টোবরে চিত্তাকর্ষক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি চলতি বছরের শুরুর দিকে বড় পতনের মুখোমুখি ছিল। এই খাতটি আগস্ট মাসে ৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছিল। পরে সেপ্টেম্বরে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে প্রথম ১০ মাসে, ইইউতে মোট পোশাক রপ্তানির গতি শ্লথ। এ অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি মাত্র শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০২৩ সালের একই সময়ের মধ্যে যেখানে রপ্তানি হয়েছিল ১৫ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের, এ সময়ে তা পৌঁছেছে মাত্র ১৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়নে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইইউতে সামগ্রিক আমদানি মূল্য এবং পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধি পেলেও বিভিন্ন সোর্সিং দেশগুলোর একটি জটিল চিত্র এটি। ওই বাজারে প্রধান সরবরাহকারী চীনের পোশাক আমদানির মূল্যে সামান্য প্রবৃদ্ধি, মাত্র ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে সেখানে বাংলাদেশের পোশাকের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বেশিরভাগ সরবরাহকারীদের জন্য ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে বিশ^ব্যাপী পোশাক শিল্পের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক চাপও বেড়েছে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে চীন থেকে ইইউর আমদানি মূল্য ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে।