হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিসের বিষয়ে নিশ্চিত নয় ট্রাইব্যুনাল

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়েছেÑ গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ নিয়ে বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়। তবে, কিছুক্ষণ পর চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবেদন করা হলেও নোটিস জারির বিষয়ে প্রসিকিউশনের কাছে কোনো তথ্য নেই। ফলে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশে গণমাধ্যমকর্মীরা বিভ্রান্তিতে পড়েন।

দুপুর ১টার দিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়ে গেছে।’ কবে জারি হয়েছেÑ এমন প্রশ্নে বলেন, ‘যখন আমরা আবেদন করেছি তার পরপরই। ইমিডিয়েটলি জারি হয়ে আছে। এটা তো আসলে বাইরে বলা হয় না।’ তার এ বক্তব্যের পর বেশ কিছু গণমাধ্যম এ বিষয়ে প্রতিবেদন করে।

তবে এর কিছুক্ষণ পরই চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তার আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ১৩ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির বিষয়ে যে নির্ধারিত ফর্ম আছে তা পূরণ করে চিঠির মাধ্যমে ফরওয়ার্ডিং করে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)’র কাছে পাঠানো হয়। ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির বিষয়টি তারাই দেখভাল করে। রেড নোটিস জারি হয়েছে কি না, এটা বলার দায়িত্ব এনসিবির, বাস্তবিক অর্থে পুলিশ মহাপরিদর্শকের অফিসের। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে পারছি না যে, তাদের (ইন্টারপোল) মাধ্যমে এটা জারি হয়েছে কি না বা ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে এটা আছে কি না। এ বিষয়ে জানতে হলে পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবিতে দায়িত্বরতদের কাছ থেকে জানা যাবে।’ 

আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যে সমস্ত অভিযোগ আছে বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড, গত ১৬ বছরের গুম, ক্রসফায়ারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ, পিলখানা, হেফাজত ইসলামের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের কাছে এসেছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত খুব জোরেশোরে চলমান আছে। আমরা আশা করছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অন্তত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে তদন্ত রিপোর্ট সেটা তদন্ত সংস্থা যেটা বলেছে, তারা মনে করে তারা তিন মাসের মধ্যে হয়তো বা শেষ (তদন্ত) করতে পারবেন। তবে, এটা কোনো চূড়ান্ত কথা নয়, তারা (তদন্ত সংস্থা) আশা করছেন তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে পারবেন।’