অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে পুরো পর্ষদকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ কর্মকর্তারা। তাদের দাবি সরকার পরিবর্তন হলেও অগ্রণী ব্যাংকের পদোন্নতিতে দুর্নীতি করছে নতুন পর্ষদ। বিগত সরকারের আমলে ঋণ জালিয়াতিতে সহায়তাকারী ডিএমডি-জিএমরা এখনো স্বপদে বহাল। এমনকি তারা ঋণগুলো নবায়ন ও আদায়ের ক্ষেত্রেও অনৈতিক সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছেন ব্যাংক থেকে। বিষয়গুলো অধস্তন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পর্ষদকে অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ সময় কর্মকর্তারা লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৫ আগস্ট এ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পরে দেশের পুলিশ, সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বৈরাচারের সরাসরি সহযোগীদের বিদায় হলেও যে ব্যাংক ও আর্থিক সেক্টরের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকার টাকা পাচার করে দেশকে পঙ্গু করে দিয়েছে সেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান এবং এমডিদের বিদায় দেওয়া হয়। কিন্তু স্বৈরাচারের এই সব চেয়ারম্যান-এমডিদের অনিয়ম, জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের সরাসরি সহযোগী ডিএমডি-জিএম এবং কিছু কিছু ডিজিএমরা এখনো বহালতবিয়তে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অগ্রণী ব্যাংকেও স্বৈরাচারের দোসর ডিএমডি-জিএমদের স্বপদে রেখেই নতুন চেয়ারম্যান-সিইও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু নাসের বখতিয়ার নিয়োগের শুরু থেকেই স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে তার যাত্রা শুরু করেন এবং এখনো সেভাবেই চলছেন। তিনি গত স্বৈরাচার সরকারের সব থেকে সহযোগী নির্বাহীদের নিজ নিজ পদে বহাল রেখেছেন এবং তাদের পরামর্শেই ব্যাংক চালাচ্ছেন।
বিষয়টি জানার জন্য অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবু নাসের বখতিয়ারকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।