প্রকল্পের জমি প্রভাবশালীদের দখলে

খুলনার রূপসা নদীর পড়ে কেন্দ্রীয় নৌযান মেরামত কারখানা ও আধুনিক নৌযান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণে প্রায় সাত বছর আগে জমি বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। উচ্চমূল্যের জমি প্রতীকী মূল্যে পেয়েও দীর্ঘ এই সময়ে সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে সরকারের যানবাহন অধিদপ্তর। এ পরিস্থিতে জমিটিতে প্রভাবশালীর ১৫ ব্যক্তি ব্যবসা পরিচালনা করে আয় করছেন কোটি কোটি টাকা।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নৌযান মেরামত কারখানা না থাকায় সরকারি নৌযানগুলো মেরামত ও সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সেটি বিবেচনায় খুলনায় কেন্দ্রীয় নৌযান মেরামত কারখানা ও আধুনিক নৌযান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর। কারখানা নির্মাণে তারা উপযোগী জায়গা খুঁজতে থাকে। তখন খুলনার রূপসা নদীর তীরে কাস্টম ঘাট এলাকায় খাসজমি বাছাই করে জেলা প্রশাসন। যানবাহন অধিদপ্তরকে ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল নদীর টুটপাড়া মৌজার তিন দশমিক ৩৩ একর জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তখন ওই জমির বাজার মূল্য ছিল ৫৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। তবে খুলনা জেলা প্রশাসন জমিটি মাত্র এক লাখ এক হাজার টাকা প্রতীকী মূল্যে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়। এতে দ্রুতই সমাপ্ত হয় জমি বাছাই প্রক্রিয়া ও চূড়ান্তকরণের কাজ। তবে জমি বুঝে পেয়েও বিগত প্রায় সাত বছরেও সেখানে কারখানা ও ইনস্টিটিউশন নির্মাণকাজ শুরু করতে পারেনি যানবাহন অধিদপ্তর।

গত সোমবার সরেজমিনে ওই জমিতে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে পুরো জায়গা জুড়ে চলছে কাঠের গোলা, ইট-বালু-কয়লা ও পাথরের ব্যবসা। নদীপথে কার্গো জাহাজে করে এসব জিনিস এনে বড় স্তূপ আকারে রাখা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে ব্যবসায়িক অফিসসহ নানা স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানান, ১৫ প্রভাবশালী ব্যক্তি খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক, আওয়ামী লীগ নেতা সাত্তার খলিফা, বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব কায়সার, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম, বাহাউদ্দিন হোসেন, আকরাম হোসেন, আইয়ুব হোসেন, শহিদুল ডাক্তার, বেল্লাল তালুকদার, কমল সিদ্দিকী, নান্টু, মনির হোসেন, ইউসুফ আলী, ছোট কাজল ও বড় কাজল সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

ব্যবসায়ী বেল্লাল তালুকদার বলেন, তিনি ৪০ বছর ধরে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মাঝেমধ্যে সরকারি লোকজন এসে মাপ নিয়ে যায়। পরে আর কোনো খোঁজ থাকে না। তিনি চান রেভিনিউ দিয়ে ব্যবসা করতে। তবে ১৫ বছর ধরে রেভিনিউ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।

বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব কায়সার বলেন, নৌযান মেরামত কারখানা হবে শুনেছি। আওয়ামী লীগ আমলে লুটপাটের প্রকল্প নেওয়া হতো এটাও সেরকম একটি প্রকল্প ছিল। তবে বর্তমানে কোনো তৎপরতা নেই।

এ প্রসঙ্গে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (নৌ) মো. সাদ্দাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৭ সালে জমি বুঝে পাওয়া যায়। তবে দখলদারদের উচ্ছেদ করা যায়নি। এ ছাড়া যেহেতু কেন্দ্রীয় নৌযান মেরামত কারখানা ও আধুনিক নৌযান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট তাই পরবর্তীতে ঢাকার কাছাকাছি কোথাও কারার চিন্তা করা হয়। এসব কারণে প্রকল্প নিয়ে সামনে এগোনো যায়নি। তবে জমি যেহেতু খুলনায় রয়েছে। তাই সম্প্রতি কারখানার বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অধিদপ্তরের কমিশনারসহ একটি টিম খুলনা সফল করবে খুব শিগগিরই। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।