আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে এই হামলায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১৫ জন নিহতের খবর দেয় আফগান সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় চারটি স্থানে বোমাবর্ষণ করে পাকিস্তান। এই বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিশু ও নারী। এ ছাড়া এই হামলায় ছয়জন আহত হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র।
পাকিস্তানের হামলার নিন্দা জানিয়ে তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের হামলাকে বর্বর ও স্পষ্ট আগ্রাসন বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই কাপুরুষোচিত কাজের জবাব দেওয়া হবে। ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার বিষয়টি আফগানিস্তান তার অবিচ্ছেদ্য অধিকার বলে মনে করে।
অন্যদিকে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটির সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, সীমান্তের কাছে তালেবানদের আস্তানা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, বিমান হামলায় বারমাল জেলার মুর্গ বাজার এলাকার একটি গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া বিমান হামলার ফলে বেসামরিক মানুষ গুরুতরভাবে হতাহত হয়েছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে, যা এই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হামলার পর উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
২০২১ সালে আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বেড়ে চলছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। জঙ্গিদের পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। তবে ইসলামাবাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কাবুল।