বিধ্বস্ত গাজায় বড়দিন ‍উদযাপন, ‘মৃত্যু ও ধ্বংস’ শেষের প্রার্থনা

বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্টের জন্মতিথির দিন। খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়ও ছোঁয়া লেগেছে বড়দিনের। তবে গত ১৪ মাস ধরে চলমান ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে বিধ্বস্ত-বিপর্যস্ত গাজায় এ উৎসবের লেশমাত্র উদযাপন নেই। কোথাও উৎসবমুখর আলোকসজ্জা হয়নি, উপত্যকার কোনো খ্রিস্টান বাড়িতে রাখা হয়নি বড়দিন উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ ক্রিসমাস ট্রিও।

তবুও পবিত্র বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নিতে মঙ্গলবার গাজার প্রধান শহর গাজা সিটির বৃহত্তম গির্জা গ্রিক অর্থোডক্স চার্চ অব সেইন্ট পরফিরিয়াসে জড়ো হয়েছিলেন শতাধিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। সেখানে গাজায় মৃত্যু ও ধ্বংস শেষের জন্য প্রার্থনা করেছেন তারা।

বড়দিন উপলক্ষে দ্বাদশ শতকে নির্মিত এই গির্জাটিতে প্রার্থনা করতে এসেছিলেন জর্জ আল সায়েফ। এএফপিকে তিনি বলেন, “এই বড়দিন মৃত্যু ও ধ্বংসের দূষণে পরিপূর্ণ। এখানে কোনো আনন্দ নেই, উৎসবের আবহ নেই। আমরা এমনকি এ ও জানি না যে আজকের এই প্রার্থনায় যারা এসেছে, তারা আগামীকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারবে কি না।”

গাজা সিটির যে গির্জাটিতে গতবার বড়দিনের প্রার্থনা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর গোলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটিও। গত বছর অক্টোবরে ইসরায়েলি গোলা আঘাত হানে গির্জা চত্বরে, এতে নিহত হয়েছিলেন সেখানে আশ্রয় নেওয়া ১৮ জন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান।

গাজায় অবশ্য খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের কমিউনিটি খুব বড় নয়। বর্তমানে এই কমিউনিটির ১ হাজার ১০০ জন জীবিত রয়েছেন।