রোগীদের কম ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রোগীদের নিম্নমানের খাবার ও পরিমাণে কম দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে বলে প্রমাণ পায়। এতে করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হাবিবুর রহমান নামে হাসপাতালের এক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটিও।

দুদকের খুলনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ জানান, তারা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পান। এর ভিত্তিতে রান্নাঘরে দুপুরের খাবার যাচাই করা হয়। ১ হাজার ৩৩৫ জনকে খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও রান্না করা মুরগির পিস পাওয়া যায় ১ হাজার ৯৪টি। বাকি ২৪১ জনের খাবার কম ছিল। প্রতি পিস মাংসের ওজন হওয়ার কথা ৯৫ গ্রাম। কিন্তু মাংসের পিস মেপে দেখা যায় ওজন চারভাগের একভাগ। ভালো মানের চিকন চালের ভাত দেওয়ার কথা থাকলেও রান্না করা ভাত ছিল মোটা চালের।

দুদক কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ জানান, তারা রান্নাঘরে ঢোকার সময় দেখতে পান কিছু মালপত্র নিয়ে একজন পালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে আটক করলে তার কাছে চার কেজি মুরগির মাংস, ৪৯টি ডিম, আট পাউন্ড রুটি, কয়েকটি লাউ, দুই পলিথিন ব্যাগভর্তি ভাত, দুই কেজি চাল, পেঁয়াজ, শুকনো মরিচ, কলা, তেল ও ডাল পাওয়া যায়। এগুলো আবার রান্নাঘরে রাখা হয়। এগুলো রোগীদের খাবার হিসেবে ছিল; কিন্তু রোগীদের না দিয়ে চুরি করা হচ্ছিল। রান্নাঘরে গিয়ে সুপারভাইজার হাবিবকে পাওয়া যায়নি। আউটসোর্সিংয়ের এক কর্মচারীকে পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। প্রতিদিন খাবারের নমুনা পরীক্ষার নিয়ম আছে। নমুনা হিসেবে যে খাবার পাঠানো হচ্ছিল, তার মান ভালো। কিন্তু রোগীদের যে খাবার দেওয়া হচ্ছিল, তা নিম্নমানের ও পরিমাণে কম।

দুদকের ওই কর্মকর্তা জানান, খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য এক পিস মাংস দেওয়ার কথা। কিন্তু পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মচারীরা রান্নাঘর থেকে ২০-৩০ জনের খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন, যা অনিয়ম। কর্মচারীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, বিভিন্ন লোকজনকে দিতে হবে। কিন্তু আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাড়া আর কারও নাম বলতে পারেননি।

দুদকের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘আমরা রান্নাঘরে ঢোকার আগে আরও কয়েকজন খাবার নিয়ে গেছে বলে জেনেছি। কিন্তু আমরা একজনকে খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরি।’ তিনি বলেন, রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম-দুর্নীতি পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মোহসীন আলী ফরাজি বলেন, অভিযানের পর খাবারের দায়িত্বে থাকা স্টুয়ার্ড হাবিবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে উপপরিচালককে আহ্বায়ক, সহকারী পরিচালককে সদস্য সচিব ও আরএমওকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এদিকে গতকাল বুধবার বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা খুমেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।