উন্নত চিকিৎসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে লন্ডন যাচ্ছেন। ৭ জানুয়ারি সম্ভাব্য তারিখ ধরে সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা।
এদিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে যারা যাবেন তাদের তালিকা সংবলিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। চিঠিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে চিকিৎসক, ব্যক্তিগত সহকারী ও স্বজন মিলিয়ে যে ১৫ জন যাবেন তাদের নাম, পদবি উল্লেখ করা হয়েছে।
দলের নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন প্রথমে লন্ডনে যাবেন। দীর্ঘ যাত্রার জন্য বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। লন্ডনে অবস্থানরত তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সূচি নির্ধারণ করার পর সেখান থেকে যুক্তেরাষ্ট্রে নেওয়া হবে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে। দেশ-বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সার্বিক বিষয় সমন্বয় করেন জোবাইদা রহমান। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়া সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরবেন।
খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে ১৫ জনের একটি তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৩০ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে যাবেন এবং ওই দেশের ভিসা পাওয়ার জন্য সহায়তা দেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সফরসঙ্গীদের মধ্যে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য ও তার সহকারী রয়েছেন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে যারা যাবেন তারা হলেনÑ তার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলী রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, মো. সাহাবুদ্দিন তালুকদার, নুর উদ্দিন আহমদ, মোহাম্মদ আল মামুন, শরীফা করিম স্বর্ণা, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, সহকারী একান্ত সচিব মো. মাসুদুর রহমান, প্রটোকল অফিসার এসএম পারভেজ এবং হাউজমেড ফাতিমা বেগম ও রূপা শিকদার।
এর আগে ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই লন্ডন গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। একাধিক মামলায় পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ওই বছর ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন তিনি। ওই সময় যুক্তরাজ্যের ডা. হ্যাডলি ব্যারির কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। ওই বছর অক্টোবরে হাইকোর্টে আপিল শুনানি শেষে সাজা বেড়ে হয় ১০ বছর। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও আরও সাত বছরের সাজা হয় বিএনপি নেত্রীর। তখন দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। এরপর থেকে ছয় মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছিল সরকার।
অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বহুবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। দিনের পর দিন তাকে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। আওয়ামী সরকার তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। পরে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দেশেই তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়া হয়। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।