লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষের মামলায় মো. বেলাল নামে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ওই ঘটনা ঘটে। এতে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ, ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আবুল কাশেমসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ওসি আব্দুল মোন্নাফ জানান, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার এসআই সাদেকুল ইসলাম মামলাটির বাদী। তবে আসামিদের নাম পরিচয় কিছুই জানায়নি পুলিশ।
জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত সংঘর্ষের ঘটনায় সদর মডেল থানায় হওয়া একটি মামলার প্রধান আসামি বেলাল। তিনি ভবানীগঞ্জের চরভূতা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনির হোসেনের ছেলে এবং এলাকায় বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে সদর থানা-পুলিশের একটি দল মারামারির মামলার আসামি বেলালকে গ্রেপ্তার করতে শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় অভিযানে যায়। গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার সময় আসামিপক্ষের লোকজন পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা গিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি বেলালসহ এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালায়। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত বেলালকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, ঘটনার সময় আসামি বেলাল একটি চা দোকানে বসেছিলেন। সদর থানার সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় দোকানে উপস্থিত থাকা বিএনপি নেতা সাইফুদ্দিন খালেদ ও আবুল কাশেমসহ কয়েকজন সাদা পোশাকধারীদের পরিচয় জানতে চান। এর মধ্যেই লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে বিএনপি নেতারা বেলালকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। রাতে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে বেলালসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। তবে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।
সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, ‘বেলালসহ আমরা চা দোকানে বসা ছিলাম। ওই সময় সাদা পোশাকধারী লোকজন এসে তাকে আটক করেন। এ সময় আমরা তাদের পরিচয় জানতে চাই। এর মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। একপর্যায়ে কৌশলে বেলাল পালিয়ে যায়। কেউ তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়নি। ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটলে বেলাল তার লুঙ্গি ফেলে রেখে পালাত না।’