ফেনীতে এক বাসার সোফার নিচে থেকে মাসুদা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাসুদা ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৯টার দিকে ফেনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড়ের সাবেক কমিশনার ফারুকের ফলেশ্বর এলাকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মাসুদা বেগম উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ইসলামের স্ত্রী। তিনি প্রায় একযুগ ধরে ওই বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ফারুকের দুই ভাই মাওলা ও হায়দার তাদের পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তারা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। বাড়ির কাজ করার জন্য মাসুদাকে ডেকে আনা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দ্বিতীয় তলার ফ্রিজ থেকে মাংস আনতে পাঠানো হয় মাসুদাকে। এর কিছু সময় পর দ্বিতীয় তলায় চিৎকার ও বিকট আওয়াজ শুনতে পান তৃতীয় তলায় থাকা বাড়ির সদস্যরা।
পরে দ্রুত ছুটে গিয়ে তারা দোতলার দরজা বন্ধ পান। মাসুদাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে চোর-ডাকাত সন্দেহে বাড়ির অন্যদের জানানোর জন্য তৃতীয় তলার দিকে উঠতেই দরজা খুলে দৌঁড়ে এক লোক চলে যায়। পরে ভেতরে ঢুকে মাসুদার মরদেহ দেখার পর পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেয়।
ওই ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৯টা ১৩ মিনিটে কালো প্যান্ট ও সাদা চেক শার্ট পরা অজ্ঞাত এক যুবক ভবনে প্রবেশ করছে। আবার ৯টা ১৭ মিনিটে ওই যুবক ভবন থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে যায়।
ফেনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বাড়ির মালিক গোলাম ফারুক মজুমদার বলেন, বাসা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আমি চায়ের দোকানে বসা ছিলাম। বাসা থেকে মোবাইলে খবর পাই চোর-ডাকাত ঢুকেছে। খবর পেয়ে দৌঁড়ে বাসার ওঠে দেখি রক্ত। সিসি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে এক যুবক বাসায় ঢুকে কিছুক্ষণ পর আবার বের হয়ে গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম টিম ডাকা হয়েছে।
কে বা কারা ঘরে ঢুকে গৃহকর্মীকে গলাকেটে হত্যা করেছে তা তদন্তের পর বলা যাবে বলে জানান মর্ম সিংহ ত্রিপুরা।