চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীর ইশানবালা খালের মুখে সারবাহী এমভি আল-বাখেরা জাহাজে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে সারাদেশে এ কর্মবিরতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। সংগঠনটির অফিস সচিব মো. আতিকুল ইসলাম টিটু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।
দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, চাঁদপুরের একটি জাহাজে সাত খুনের রহস্যের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল তার সঠিক তদন্ত দাবি করছি। সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সরকার আমাদের সাথে বসার আগ্রহ দেখায়নি এবং আমাদের দাবি পূরণের কোনোো পদক্ষেপ না থাকায় আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা স্বতস্ফুর্তভাবে এই কর্মসূচি পালন করছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
তিনি আরও বলেন, এই ৭ জনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব যখন আকাশ মন্ডল নামের একজন কে আটক করে সে সময় আমরা উচ্ছ্বসিত হয়েছিলাম হয়তো সঠিক বিচার পাবো আমরা। কিন্তু প্রেস ব্রিফিং এ যেসব বক্তব্য র্যাব দিয়েছে সেসব বিশ্বাসযোগ্য না। একজন মানুষ এভাবে ৭ জনকে হত্যা করতে পারে না এবং নদী থেকে জাহাজ নিয়ে খালে যেতেও পারে না। একটি জাহাজের কার্যক্রম চালাতে বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো দক্ষ লোকের দরকার। অন্তত দুইজন লাগে একজন মাস্টার একজন ড্রাইভার। সেখানে আট মাস কাজ করা একজন অদক্ষ লস্কর ছেলের পক্ষে সবাইকে মেরে জাহাজ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার মত কথা র্যাব আমাদের বিশ্বাস করতে বলছে। আমরা র্যাবের এই বক্তব্য কে প্রত্যাখ্যান করছি এবং আমরা ধারণা করছি এর পেছনে আরও শক্তিশালী কোনো শক্তি কাজ করছে । যতক্ষণ সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হবে না আমরা আমাদের কাজে নামব না।
তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই আমাদের নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং আহত ভাইকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আহত শ্রমিক ভাইকে হাসপাতালের বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে । সরকারের কোনো দায়িত্বশীল একবার এসে নিহতের পরিবার বা আহতের খোঁজ নেননি। তাছাড়া এখন নদী পথে সারসহ অনেক পণ্য নিয়মিত চলাচল করে কিন্তু আমাদের নিরাপত্তার কোনো দায়িত্ব কেউ নিতে রাজি না। থাকে না কোনো স্কর্ট। তাই নদী পথে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চির করতে হবে সরকারকে।
এ বিষয়ে একমত জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম।
এর আগে গত সোমবার চাঁদপুরের হাইমচরে জাহাজে সাত খুনের ঘটনা ঘটে। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র্যাব-১১ ও র্যাব-৬ যৌথ অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারির আত্মীয়ের বাসা থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করে। সেসময় র্যাবের প্রেস ব্রিফিং থেকে জানানো হয় ক্ষোভ থেকে জাহাজের মাস্টারকে হত্যা করেন। পরে ধরা পড়ার ভয়ে অন্যদের হত্যার পরিকল্পনা করেন আকাশ মন্ডল। তিনি একাই এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এ ঘটনায় জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে চাঁদপুরের হাইমচর থানায় একটি মামলা করেন।