অন্যের জমিতে উন্নয়ন প্রকল্প!

রাজশাহী শহরের গত কয়েক বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য জমি অধিগ্রহণে নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমি অনেকটা প্রভাব খাঁটিয়ে দখল করেছে সিটি করপোরেশন। শহরের কয়েকটি রাস্তা সম্প্রসারণ এবং ওভারপাস নির্মাণের ক্ষেত্রে এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের আগে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানসহ অনেকেই মূলত রাজনৈতিক নেতাদের লেজুড়বৃত্তি করে নিজের পদ ধরে রেখেছিলেন। আর এই ধারাবাহিকতা রাখতে গিয়ে তারা তৎকালীন মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর আলোচনায় এসেছে এই প্রসঙ্গটি। যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলোতে নতুন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জমি দখলের অভিযোগও তুলছে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সীমানার ভেতর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ফ্লাইওভার। অথচ এই জমি ব্যবহারে কোনো অনুমতিই নেয়নি রাসিক। এমনকি তাদের অজান্তেই গাছও কেটেছে সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ। এই কাজটি এখনো চলমান রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিষয়টি মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের বাধার মুখেও পড়ে সিটি করপোরেশন। একই অবস্থা ঘটেছে রাজশাহী কলেজের খেতেও। সাহেব বাজার থেকে কোর্ট পর্যন্ত সড়ক চওড়া করতে গিয়ে রাজশাহী কলেজের সীমানা প্রাচীর ভাঙতে হয়েছে। আর রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের প্রাচীর ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে চালপট্টি থেকে বর্ণালি মোড়ের রাস্তা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে কাজলা থেকে কড়ইতলা ও বিনোদপুরের সড়ক। এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমিতে উন্নয়নকাজ করলেও জমি ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়নি অনুমতি। তবে রাসিকের দাবি, যথাযথ নিয়ম মেনেই হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ। যদি নাও হয়ে থাকে তবে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তারা যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. খন্দকার আলম বলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি আরেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নিতেই পারে। তবে অনুমোদন লাগে, আর মেডিকেল কলেজ যেহেতু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাই এটার মালিক তারাই। আমরা লিখিত আপত্তি জানিয়েছি। তবে বাধা তো দিতে পারি না। কারণ একনেকে পাস হয়েছে, আর সেখানেও সচিবরাই অনুমোদন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাজ বন্ধও রাখা হয়েছিল। পরে কয়েক দফায় তাদের নিয়ে আলোচনায় বসা হয়েছিল। ছাত্ররা প্রথমে রাজি হয়নি। পরে এর বিনিময়ে হোস্টেল করে দেওয়া, গ্যাসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সিটি করপোরেশন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, আমাদের জমিটি কীভাবে নেওয়া হয়েছে সেটি আমাদের জানা নেই। তবে জমি ব্যবহারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করছি।

যদি নিয়ম না মেনে এটি নেওয়া হয় তবে এটি নিয়ে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

রাজশাহী বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. সেলিম খান বলেন, আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি কেপিআই। তারপরও এটি তারা ভাঙতে চেয়েছিল। আমরা তখন এটি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিলাম। তবে এখন আমাদের সমস্যা হচ্ছে। তারা রাস্তা উঁচু করায় আমাদের ওয়াল নিচে পড়ে গেছে। আমরা আনসার বাড়িয়েছি। মন্ত্রণালয়কেও জানিয়েছি।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ বলেন, কোনো জমি ব্যবহার করলে নিয়ম মেনেই করতে হয়। এখন আমারও প্রশ্ন অনুমতি ছাড়া কীভাবে হলো? তবে বিষয়টি যখন জানালেন আমি খোঁজ নিচ্ছি।