ফেনীতে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের নামে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সরকারি জিয়া মহিলা কলেজ, ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ ও ছাগলনাইয়া শহীদ জিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুধু নামের কারণেই শিক্ষকরা কখনো কোনো সমস্যা নিয়ে মুখ খুলতে পারতেন না। নাম পরিবর্তন করলে উন্নয়ন হবে এমন প্রস্তাবও পেয়েছেন তারা।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ফুলগাজী মহিলা কলেজ ২০০৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ হিসেবে নামান্তর হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে ফের সেটি ফুলগাজী মহিলা কলেজ হিসেবে রূপান্তরিত হয়। কলেজ শাখাটি ফুলগাজী মহিলা কলেজ হলেও কারিগরি শাখা এখনো বেগম খালেদা জিয়ার নামেই পরিচালিত হচ্ছে।
ফেনীর ফুলগাজী মহিলা কলেজে কক্ষ সংকটের অভাবে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান, ছাত্রীদের পড়াশোনাসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত পেয়েছে এটি। কলেজের সুনাম থাকলেও নামের কারণেই বৈষম্যের শিকার হয়ে সংকটময় সময় পার করতে হচ্ছে এখানকার ছাত্রী ও শিক্ষকদের। পড়াশোনার জন্য যথোপযুক্ত স্থান পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি সেকশনে রয়েছে ১ হাজার ১০০ ছাত্রী।
কলেজ অধ্যক্ষ আশিষ কুমার লুথ বলেন, ‘কলেজটি খালেদা জিয়ার জন্মস্থান ফুলগাজীতে ও তার নামে হওয়ায় গত ১৫ বছর কলেজের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরাদ্দের ক্ষেত্রে অন্যান্য কলেজের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হয়েছে এটি। কলেজের দুটি ভবন থাকলেও তাদের দূরত্ব ৩০০ মিটার। এক হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী থাকলেও শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ৩১ জন। একটি চারতলা আইসিটি ভবন করার কথা থাকলেও তা হয়নি।’
অন্যদিকে ফেনী শহরের শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়কে বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত হয় জিয়া মহিলা কলেজ। এই কলেজটি ১৯৮০ সালে একটি বেসরকারি কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৮৬ সালে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতীয়করণের ঘোষণা দেন এবং পরের বছর এটি সরকারি কলেজে রূপান্তরিত হয়।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল কলেজের পিঠা উৎসব ও কমিশনার জয়নাল আবেদীন গ্রন্থাগারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একটি বাস দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস পাওয়া যায়নি। ফলে আগের একটি বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে আসা-যাওয়া করতে হয়।
কলেজটির বর্তমান অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, ‘গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সময় সরকারি বরাদ্দ ও ভবনের জন্য আবেদন করলেও কোনো ফল হয়নি। সরকারের শেষ সময় একটি ভবনের অনুমোদন দিলেও তা মাত্র একতলা বিশিষ্ট হয়ে চলমান। কলেজে তিনটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করার জন্য আবেদন করলেও তা করা হয়নি। কলেজের কোনো অডিটোরিয়াম নেই, কলেজের পুরনো ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ে আসবাব নষ্ট হচ্ছে। বর্ষাকালে ক্লাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। কলেজ ছাত্রীদের জন্য দুটি বাসের প্রয়োজন হলেও প্রায় ২৫ বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া একটি বাসের ব্যবস্থা করেছেন, যা এখনো চলমান।’ ছাগলনাইয়ার রাধানগরে ঐতিহ্যবাহী শহীদ জিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ ও একাডেমিক ভবন সংকটে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাদ্রাসাটির নাম শহীদ জিয়ার নামে নামকরণ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এটি সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য-সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রীর এ প্রতিষ্ঠানটি মাত্র একটি দোতলা ভবন দিয়ে কোনোরকম গাদাগাদি করে পড়ালেখা করছে। সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় মাদ্রাসার টিনশেড ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ওয়াজি উল্যাহ জানান, ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন, পৌরসভার একাংশসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের দ্বীনি শিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান জঙ্গলমিয়া বাজারের কাছে অবস্থিত শহীদ জিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসাটি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। পরে ১৯৯৫ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। ২০০৪ সালে আলিম শ্রেণির স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষার মান ভালো হওয়ায় উপজেলার মাদ্রাসাটি ব্যাপক খ্যাতি লাভ করে। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী ও পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য একাডেমিক ভবন ও প্রয়োজনীয় আসবাব সংকট রয়েছে।
ছাগলনাইয়া উপজেলা জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সহসভাপতি ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ওয়াজি উল্যাহ আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো বরাদ্দ পাইনি। একটি মাত্র ভবনে কোনোভাবেই সুচারুভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। তাই বর্তমান সরকারে কাছে দ্রুত একটি নতুন ভবন দাবি করছি।’