ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে তৈলারদ্বীপ সেতু, দুর্ঘটনার শঙ্কা 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম শঙ্খ নদীর ওপর নির্মিত তৈলারদ্বীপ সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি চক্র সেতুর ফুটপাতের ঢালাই খুঁড়ে লোহা (রড) নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে সেতু দিয়ে হাঁটতে পারছেন না পথচারীরা। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে। 

২০০৬ সালে বাঁশখালীসহ কক্সবাজারগামীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শঙ্খ নদীর ওপর তৈলারদ্বীপ সেতুটি সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে বাঁশখালী অংশের পাশের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে সেখানে বালু ভরাট করে মেরামত করা হলেও তা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ রয়েই গেছে। এরই মধ্যে সেতুর ফুটপাতের ঢালাই খুঁড়ে লোহা নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। 

গতকাল সরেজমিনে পরিদর্শনকালে পথচারীরা ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, এটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। বাঁশখালী হয়ে কক্সবাজার, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া যাওয়ার একমাত্র সেতু এটি। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। তাই এটি সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। 

সেতুর পাশের মাটি সরে যাওয়া এবং ঢালাই খোঁড়ার বিষয়ে জানতে সওজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, বিগত ৫ আগস্টের পর সেতুর টোলঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে ফুটপাতের নতুন নতুন অংশ ভেঙে লোহা নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এতে সেতুটি অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

স্থানীয় সমাজকর্মী নিজাম উদ্দিন বলেন, সেতুর ফুটপাতের ঢালাই ভাঙার বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। যারা কাজটি করছে, তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। জনগণের স্বার্থে কিছুদিন আগে সেতুতে টোল আদায় বন্ধ করা হয়েছে। এতে মানুষ বিনা খরচে সেতু পারাপার হতে পারছে। কিন্তু দুর্বৃত্তদের কারণে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। তাই এ সেতুর প্রতি সওজের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।