দেশীয় জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিনের জাহাজ চলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ওয়েস্টার্ন মেরিনের শিপ ইয়ার্ডে নির্মিত ‘রায়ান’ নামের জাহাজটি নতুন বছর থেকে চলবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাতে। শুধু এটাই নয়, নতুন বছরে আরও ১০টি জাহাজ রপ্তানি করবে প্রতিষ্ঠানটি। আরব আমিরাতের মারওয়ান শিপিংয়ের জন্য ৬৯ মিটার দীর্ঘ বিশেষায়িত জাহাজটি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সুসজ্জিত নতুন জাহাজটি পতেঙ্গা বোট ক্লাবের পাশে রাখা হয়েছে। ২০২০ সালের পর এটিই ওয়েস্টার্ন মেরিনের প্রথম জাহাজ রপ্তানি। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বোট ক্লাবের ঘাটে ওয়েস্টার্ন মেরিনের ক্রুজে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান বলেন, ২০২০ সালে আমরা একটি জাহাজ ভারতে রপ্তানি করেছি। এরপর কোভিড ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দায় জাহাজ বিক্রি বন্ধ ছির। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে আরব আমিরাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্ডার পাওয়া যায়। এরমধ্যে মারওয়ানা শিপিং এর কাছে আটটি জাহাজ রপ্তানি করতে যাচ্ছি।
বাকি জাহাজগুলো কখন রপ্তানি করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘রায়ান’ নামের ৬৯ মিটার ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং এপ্রিলে ‘খালিদ’ ও ‘যায়া’ নামে দুটি টাগবোট রপ্তানি করা হবে। বাকি ৫টি জাহাজ ওই বছরের বিভিন্ন সময়ে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, এছাড়াও আগামী মাসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের কাছে ‘এমভি রূপসা’ ও ‘এমভি সুগন্ধা’ নামে দুটি যাত্রীবাহী জাহাজ হস্তান্তর করবে প্রতিষ্ঠানটি।
জাহাজ রপ্তানি বিষয়ে জানা যায়, ওয়েস্টার্ন মেরিন এ পর্যন্ত ১১ দেশে ৩৩টি জাহাজ রপ্তানি করেছে, যার মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী, ওয়েস্টার্ন মেরিনের জিএম (অর্থ) আবুল মনসুর, শাহেদুল বাশার প্রমুখ।