ধর্ষণের পর ইউপি সদস্যের মুখে বিষ ঢেলে হত্যা

নড়াইল সদর উপজেলায় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের এক নারী ইউপি সদস্যকে দল বেঁধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে বাসনা মল্লিক নামের ৫২ বছর বয়সী ওই ইউপি সদস্যের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, ওই নারীকে ধর্ষণের পর বিষ খাওয়ানো হয়েছিল। তার শরীরে ধর্ষণের ক্ষত ছিল; পেটে বিষ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে মাদারীপুরে বসতঘর থেকে মুখে গামছা বাঁধা অবস্থায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজৈর উপজেলার নয়াকান্দি গ্রাম থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিশা আক্তার নামের ওই শিশুটির পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার নড়াইল প্রতিনিধি জানান, মৃত বাসনা মল্লিকের বাড়ি সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের পোড়াডাঙ্গা গ্রামে। তিনি ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ওই ইউপি সদস্যের মৃত্যু হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে গ্রামের বাড়িতে তার শেষকৃত্য হয়।

এ ঘটনায় গতকাল বেলা ১১টার দিকে একই উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ফারুক হোসেনকে (৬০) মাগুরা থেকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একই গ্রামের রজিবুল নামের আরেক নামও এসেছে। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক আছেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা (আরএমও) বজলুর রশীদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীকে ধর্ষণ করে বিষ খাওয়ানো হয়েছে। তার শরীরে ধর্ষণের ক্ষত ছিল; আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই নারীর পেটে বিষ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে এলে বিস্তারিত বলা যাবে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর টিসিবির পণ্য দিতে মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে যান বাসনা মল্লিক। সেখানে কাজ শেষে নিজ বাড়ি মাইজপাড়ার পোড়াডাঙ্গা গ্রামে ফেরার পথে পাশের দৌলতপুর গ্রামের রজিবুলের ফোন পেয়ে তার কাছে পাওনা ১০ হাজার টাকা আনতে সেখানে যান। পরে দৌলতপুর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে রজিবুল ও তার সহযোগী ফারুক বাসনাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর থেকে রজিবুল ও ফারুক পালিয়ে যায়।

বাসনা মল্লিকের ছেলে রিংকু মল্লিক বলেন, ‘পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে রজিবুল মোবাইল ফোনে আমার মাকে দৌলতপুর গ্রামের একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। আমার মায়ের সঙ্গে যারা এসব করছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

রিংকুর স্ত্রী বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে এসে আমার শাশুড়ি বমি করেন। অবস্থা খারাপ হলে বুধবার দুপুরে যশোর হাসপাতালে ভর্তি করি। অনেক চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না।’

মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফুরা খাতুন বলেন, ‘মঙ্গলবার ইউপি কার্যালয়ে আমাদের সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ করেন বাসনা মল্লিক। পরদিন পরিষদে না আসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তার জ্বর হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারি তার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বাসনা মল্লিকের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করছি।’

ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘বাসনা মল্লিক বিষপানজনিত কারণে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ছাড়া তার ওপর যৌন হয়রানিরও ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। এ বিষয়গুলো সামনে রেখে মৃত্যুর বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, এ ঘটনায় ফারুক হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর রজিবুল পলাতক রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হলে অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে মাদারীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে তিশাকে একা ঘরে রেখে তার ছোট বোনকে নিয়ে রাস্তায় যান তার মা শাহিনুর বেগম। পরে সন্ধ্যায় ঘরে ঢোকার সময় কিছু জিনিসপত্র এলোমেলো দেখতে পান তিনি। এ সময় তিশাকে ডাক দিলে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় ঘরে প্রবেশ করে তাকে শোকেসের পাশে মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তিশাকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহিনুর বেগম বলেন, ‘আমি বাড়ির পাশে বালুর মাঠে বসে ছোট মেয়েকে তেলমালিশ করছিলাম। এ সময় বাচ্চাটা কান্না করায় তাকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে যাই এবং আমার মেজো মেয়ে তিশাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। পরে বাড়ি ফিরে দেখি গেট আটকানো। ঘরে ঢুকেই দেখি শোকেসের পাশে মুখে গামছা বাঁধা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে তিশা। আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এমন নির্মমভাবে যে বা যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই।’

এ ব্যাপারে রাজৈর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হরিদাস রায় বলেন, ‘ঘটনাটির তদন্ত চলছে। হত্যা না আত্মহত্যা এখনো বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।’