দুজনেই স্বীকৃত বোলার। কিন্তু মেলবোর্নের পেস স্বর্গে তারা এবার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন। নিতিশ রেড্ডির সেঞ্চুরি আর জসপ্রিত বুমরা-মোহাম্মদ সিরাজের পেস আক্রমণে ভারতের যে জয়ের আশা তৈরি হয়েছিল, সেটা শেষ হয়ে গেল নাথান লায়ন আর স্কট বোল্যান্ডের প্রতিরোধে। শেষ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫৫ রানের জুটিতে দিনশেষে ৩৩৩ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা। এই টেস্ট জিততে হলে ভারতকে রীতিমতো রেকর্ড গড়তে হবে।
ভারতের প্রথম ইনিংস ৩৬৯ রানে শেষ হওয়ার পর বল হাতে জ্বলে ওঠেন দুই পেসার জসপ্রিত বুমরা এবং মোহাম্মদ সিরাজ। দুজনের আগুনে বোলিংয়ে ৯১ রানেই নেই অজিদের ৬ উইকেট। একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল দেড়শ রানও হয়তো করতে পারবে না অস্ট্রেলিয়া। ভারতের সামনে যখন জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছিল, তখনই তাতে জল ঢেলে দেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স আর মার্নার্স লাবুশানে। দুজনে ৭ম উইকেটে গড়েন ৫৭ রানের জুটি।
লাবুশানের সামনে তিন অংক ছোঁয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি মোহাম্মদ সিরাজের বলে ৭০ রানেই এলবিডাব্লিউ হয়ে যান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া কামিন্স করেন ৪১ রান। কামিন্স আউট হলে ১৭৩ রানে নবম উইকেটের পতন হয় স্বাগতিকদের। তারপরই দেখা যায় শেষ উইকেট জুটির অবিশ্বাস্য এক প্রতিরোধ। লায়ন–বোল্যান্ডের অবিচ্ছিন্ন এই জুটিতে ১৭.৫ ওভারে এসেছে ৫৫ রান। দিনের শেষ ওভারে বুমরাকে দুটি চার মারা লায়ন অপরাজিত ৫৪ বলে ৪১ রানে। অপরপ্রান্তে থাকা বোল্যান্ড রান ৬৫ বল খেলে করেছেন ১০ রান।
আগামীকাল সোমবার ম্যাচের শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়া যদি আর কোনো রান যোগ নাও করে, তবু রোহিত শর্মাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। মেলবোর্নে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৩২ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে। ১৯২৮ সালে ইংল্যান্ড এই রান তাড়া করে জিতেছিল। তাই ভারতকে রীতিমতো রেকর্ড গড়ে জিততে হবে। ভারত যদি ব্যাটিং বিপর্যয়ে না পড়ে, তাহলে নিশ্চিত ড্রয়ের পথেই এগোচ্ছে মেলবোর্ন টেস্ট। যদিও পঞ্চম দিনের উইকেটে টিকে থাকাটাই হবে ব্যাটসম্যানদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।