ট্রেইনি চিকিৎসদের শাহবাগ অবরোধ, জলকামান নিয়ে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

রাজধানীর শাহবাগ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) এফসিপিএস প্রথম পর্ব পাস করা অবৈতনিক প্রশিক্ষণার্থীরা। এতে ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়েছে।

এদিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে চিকিৎসকদের সমাবেশের কারণে যেকোনও ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যান এপিসি ও জলকামান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে রবিবার সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এ সময় তারা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এখন পর্যন্ত তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তা ছেড়ে যাবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ সময় আন্দোলনরত এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা আর আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে চাচ্ছি না। আমাদের আন্দোলন দীর্ঘদিনের। আমাদের প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে গেছেন। তারা ফিরে আসা না পর্যন্ত আমরা রাস্তায় থাকব।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেইনি চিকিৎসকরা রাস্তায় নেমে আসেন। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

জানা গেছে, একই দাবিতে গত ২২ ডিসেম্বরও তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন। তখন পাঁচ হাজার টাকা ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এর আগে ভাতা বাড়াতে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রেইনি চিকিৎসকরা। দাবি না মানলে দেশের প্রায় ১৩ হাজার পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসক একযোগে কর্মবিরতিতে যাবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় ২২ ডিসেম্বর ট্রেইনি চিকিৎসকেরা আন্দোলন শুরু করেন। তাদেরই একটি অংশ শাহবাগ অবরোধ করেন। পরে সরকার ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার করার ঘোষণা দেয়। ট্রেইনি চিকিৎসকরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।