দাওয়াতি কার্যক্রম মানুষকে দ্বীনমুখী করে

আল্লাহতায়ালা সমগ্র মানবজাতির একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র মানবজাতির নবী। পবিত্র কোরআন সমগ্র মানবজাতির জন্যই পথপ্রদর্শক এবং সর্বশেষ আসমানি কিতাব। ইসলাম ধর্ম সমগ্র মানবজাতির একমাত্র জীবনব্যবস্থা, যা কেয়ামত পর্যন্ত আগত সবার জন্যই গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক, এমনকি তা ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন বা ধর্ম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আর দুনিয়াতে আল্লাহর পথে আহ্বানের জন্যই নবী-রাসুলদের আগমন ঘটেছে। এ কারণেই একজন মুমিনের জীবনের অন্যতম মিশন হলো মানুষের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া। নিজেদের জীবনে কোরআন-সুন্নাহর বিধিবিধান বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবার ও পার্শ্ববর্তীদের মহান আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আহ্বান করা মুমিন বান্দার আবশ্যক কর্তব্য। এ কারণে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মুমিনদের মতো কাজের আদেশ এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করার কথা একাধিকবার বলেছেন। আর ন্যায় কাজের আদেশ এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করার অর্থ হলো, অপরকে মহান আল্লাহর পথে আহ্বান করা।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা তাহরিমে বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে নিজে বাঁচো এবং তোমার পরিবার-পরিজনকে বাঁচাও।’ মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া নবুওয়াতি কাজ। নবুওয়াতি কাজের আঞ্জাম দেওয়া মুমিন-মুসলমানের জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য। সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ, তাবলিগ ও নসিহত করা ছিল নবী-রাসুলদের ওপর ফরজ দায়িত্ব। এ কারণে সব নবী-রাসুলই তার উম্মতকে তাওহিদ ও ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন। শিরক, কুফর ও পাপকাজ থেকে নিষেধ করেছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে রাসুল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে (কোরআনের বিধিনিষেধ) তা আপনি প্রচার করুন। যদি আপনি তা না করেন তবে আপনি তার বার্তা প্রচারের দায়িত্ব পালন করলেন না।’ (সুরা মায়েদা ৬৭) এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াতের প্রচারই ছিল নবী-রাসুলদের প্রধান দায়িত্ব। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘রাসুলদের দায়িত্ব তো শুধু সুস্পষ্টভাবে প্রচার করা।’ (সুরা নাহল ৩৫)

ইসলামের এ দাওয়াতি মিশন পালনের দায়িত্ব মুমিন মুসলমান ও আলেম-ওলামাদের ওপর। যারা এ দায়িত্ব পালন করবে তারাই সফলতা লাভ করবে। আর দাওয়াত, আদেশ, নিষেধ ও নসিহত করা হলো উম্মতে মুহাম্মদের অন্যতম দায়িত্ব ও বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ এ দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে কোরআনে উল্লেখ করেন, ‘আর যেন তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। তারাই সফলকাম।’ (সুরা আলে ইমরান ১০৪)